সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: তীরে এসে তরি ডুবল! সনি নর্ডির বিশ্বমানের গোল, বিপক্ষের তেকাঠিতে একের পর এক আক্রমণ, প্রথমার্ধে দারুণ ডিফেন্স৷ সব ভালোর পরও জয় অধরা বাগানের৷

৮১ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারল না শঙ্করলালের ছেলেরা৷ তিনের বদলে পকেটে কোনও রকমে এক পয়েন্ট৷ ম্যাচে এগিয়ে থেকেও কার্যত এই এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে হল সনি-ডিকাদের৷ শেষ ম্যাচে চার্চিল ব্রার্দাসের কাছে ০-৩ গোল হজম করেছিল মোহনবাগান৷ কিন্তু এদিন লিগ টেবলে শীর্ষে থাকা চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও তা ধরে রাখতে পারল না সবুজ-মেরুন৷

আত্মসমালোচনা অনেক হয়েছে৷ পয়েন্ট হারোনার খেলার বাগানের দৌড় দেখলে মনে হবে কাপ জয়ের লক্ষ্য থেকে দশ কদম দূরে ছিটকে যাচ্ছে গঙ্গাপারের ক্লাব৷

আরও পড়ুন- ধোনির দখলে আরও একটি ট্রফি

ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দেয় শঙ্করলালের ছেলেরা৷ শুরু থেকে ঘর ঘুছিয়ে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় বাগান৷ ম্যাচের বয়স ১০ থেকে ১২ মিনিট৷ দুমিনিটের ব্যবধানে টানা তিনটি আক্রমণ বাগানের৷ প্রথমটা হেনরির পাস থেকে পিন্টুর শট চেন্নাই গোলকিপারের হাতে লাগে৷ দ্বিতীয়বার সনির সেলো রান থেকে চেন্নাই বক্সে বিপদ তৈরি করে বাগান৷ কিসেকার পায়ে বল পড়লে স্কোরলাইন ওখানেই ১-০ হতে পারত৷ পরে ওমরের একটি শট পোস্টের উপর দিয়ে বেড়িয়ে যায়৷ ৩৬ মিনিটে আবার সাইড নেট কাঁপালেন পিন্টু৷ তেকাঠিতে থাকলে প্রথমার্ধে এক গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ার কথা বাগানের৷

রক্ষণ সামলে অলআউটে ঝাঁপানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন৷ খেলার শুরুতে সনি-হেনরিদের আক্রমণ দেখে দিনটা বাগানেরই মনে হয়েছিল৷ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এরপর স্বপ্নের গোল আসে নর্ডির পা থেকে৷ ম্যাচের ৫০ মিনিটে কিসেকার পাস থেকে বল নিয়ে চেন্নাই সিটি এফসি-র দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বিশ্বমানের গোল করেন বাগানের হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড৷ কিন্তু ৮১ মিনিটে নেস্টরের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় দক্ষিণের দল৷ রবার্টোর পাস থেকে নেস্টরের পায়ে বল পড়তে বাগান ডিফেন্স দর্শকের ভূমিকা না নিলে চিত্র বদল হতেই পারত৷ শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে শেষ হয় বাগান-চেন্নাই লড়াই৷

আরও পড়ুন- উইকেট পেয়ে হতবাক বিরাট

এই ড্রয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরেই থাকল মোহনবাগান৷ আর ৭ ম্যাচ খেলে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চেন্নাই সিটি এফসি৷ আর ৪ ম্যাচ থেলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল৷ অন্যদিকে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ থেকে বাগানের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট৷ ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানোর রোগ সারিয়ে উঠল পারল না গঙ্গাপারের ক্লাব৷