কল্যাণী: বাগানে অগ্রিম বসন্ত! প্রেম দিবসে প্রতিপক্ষকে হাফ-ডজন গোল দিল মোহনবাগান৷ সেই সঙ্গে আই লিগ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেল সবুজ-মেরুন৷ বাগানপ্রেমীদের এদিন ‘ভ্যালেন্টাইন’স গ্রিফট’ উপহার দিলেন কিবু’র ছেলেরা৷

শুক্রবার কল্যাণীকে নেরোকাকে ৬-২ গোলে হারায় মোহনবাগান৷ ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি বাগান সমর্থকদের ঝকঝকে ফুটবল উপহার দেন কিবু ভিকুনার দল৷ এদিন আই লিগে মরশুমের নবম জয়টি তুলে নেয় বাগান। দুর্বল নেরোকা এফসি-কে গোলের মালা পরান গঞ্জালেজ, মোরান্তেরা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক ফ্রান গঞ্জালেজের৷ এছাড়াও গোল পেয়েছেন বাবা ও রোমারিও।

এদিনের জয়ের ফলে ৩ পয়েন্টের পাশাপাশি গোলপার্থক্যও অনেকটা এগিয়ে দেল সবুজ-মেরুন। প্রথম সাক্ষাতে পাহাড়ে গিয়ে নেরোকাকে ৩-০ হারিয়েছিল মোহনবাগান৷ আর ঘরের মাঠে এদিন গোলের সংখ্যা দ্বিগুণ করেন বাগান ফুটবলাররা৷ এদিনের জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে অন্যদের থেকে অনেকটা এগিয়ে গেল মোহনবাগান৷ সমসংখ্যক ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিনার্ভা৷ অর্থাৎ সেকেন্ড বয়-এর থেকে ১১ পয়েন্টের ব্যবধান বাগানের৷ আর ১১ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোকুলাম৷

টানা জয়ের মধ্যে থাকলেও দুর্বল নেরোকার বিরুদ্ধে আত্মতুষ্টি ছিল না ভিকুনার দলের৷ বৃহস্পতিবার প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে ফুটবলারদের সতর্ক করে দেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ৷ ম্যাচের শুরু থেকে এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন বাগান ফুটবলাররা৷ ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাঁচটি গোল করে ফেলে ভিকুনার দল। দ্বিতীয়ার্ধের আরও একটি গোল করে মোহনবাগান৷ দু’টি গোল শোধ করলেও ম্যাচে একবারের জন্যেও লড়াই দিতে পারেনি পাহাড়ে দলটি।

বাগানের হয়ে প্রথম গোলটি করেন গঞ্জালেজ। ১১ মিনিটে প্রথম গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন তিনি৷ এর এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় গোল করেন মোরান্তে৷ তারপর ২৪ ও ৪৫ মিনিটে আরও দু’টি গোল করে হ্যাটট্রিক করেন গঞ্জালেজ। ৩৬ মিনিটে ম্যাচের পঞ্চম গোলটি করেন বাবা দিওয়ারাও। বাগানের এই গোলের বন্যার মধ্যে দু’টি গোল শোধ করে নেরোকাও। গোল পান ফিলিপে আদজা ও সুভাষ সিং৷ ম্যাচের প্রথমার্ধেই সাতটি গোল হয়ে যায়৷

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে নেরোকা। তবে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি৷ দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে একটি মাত্র গোল হয়৷ ৬৯ মিনিটে বাগানের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করলেন রোমারিও। তবে বাগানের এদিনের জয়ের মধ্যে অস্বস্তি ধনচন্দ্রের লাল-কার্ড। নেরোকা স্ট্রাইকারে শট গোললাইন থেকে বাঁচাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করে লাল-কার্ড দেখেন ধনচন্দ্র৷।