কলকাতা: ৮২-তে শেষ হল লড়াই। চলে গেলেন চুনী গোস্বামী। ১৯৪৬ সালে মাত্র আট বছর বয়সে মোহনবাগান জুনিয়র দলের হয়ে পথ চলা শুরু। এরপর জুনিয়র-সিনিয়র কেরিয়ার মিলিয়ে ২২ বছর খেলেছেন মোহনবাগানের হয়ে। পড়শি ক্লাব সহ দেশ-বিদেশের একাধিক ক্লাবের লোভনীয় প্রস্তাব এসেছে অসংখ্য বার। যদিও কোনও প্রস্তাবই মোহনবাগান থেকে অন্য ক্লাবে নিয়ে যেতে পারেনি ১৯৬২ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী দেশের ফুটবল অধিনায়ককে।

গত কয়েকমাস ধরে সুগার, সিস্টেরেট এবং স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই ফুটবলার। তাঁর পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, এদিন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বিকেল ৫টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় চুনী গোস্বামীর।

প্রবাদপ্রতিম ফুটবলারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে প্রাণের চেয়েও প্রিয় মোহনবাগান ক্লাবের তরফ থেকে। ফুটবলের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন চুনী গোস্বামী। তাই কিংবদন্তির প্রয়াণে শোকবার্তা জ্ঞাপন করা করা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকেও। শোকবার্তা জ্ঞাপন করা হয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও। চুনী গোস্বামীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীও।

মোহনবাগানের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, ‘প্রাক্তন ফুটবলার তথা ক্লাবের কিংবদন্তি সুবিমল (চুনী) গোস্বামীর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কঠিন সময়ে ওনার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। চুনী গোস্বামী আপনি শান্তিতে ঘুমোন।’ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রাক্তন অল-রাউন্ড ক্রিকেটার চুনী গোস্বামীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে। ভারতের জাতীয় ফুটবল দলকেও তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। যার মধ্যে ১৯৬২ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ও রয়েছে। পরে ১৯৭১-৭২ অধিনায়ক হিসেবে বাংলাকে রঞ্জি ট্রফির ফাইনালেও তুলেছিলেন তিনি।’

চুনী গোস্বামীর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী লিখেছেন, ‘ভারতীয় ক্রীড়াজগতের এক অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রকে আজ হারালাম আমরা। খুব কম মানুষই দু’টি ভিন্ন খেলায় একসঙ্গে এমন দাপট দেখাতে পেরেছেন। আপনি খেলার মাঠে সবটা উজাড় করে দিয়েছেন। এবার বিশ্রাম নিন। কঠিন সময়ে আপনার পরিবার যেন শক্তি পায়।’ চুনী গোস্বামীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে৷

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব