কলকাতা: পড়শি ক্লাবের স্প্যানিশ কোচকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে শহরে পৌঁছে গেলেন মোহনবাগানের নতুন কোচ স্প্যানিয়ার্ড কিবু ভিকুনা। পূর্বনির্ধারিত সূচী অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে মাটি ছুঁল বাগানের নতুন কোচের বিমান। ভিকুনার সঙ্গেই শহরে পা রাখলেন তাঁর সহকারী টমাস চর্জ।

দুবাই হয়ে এদিন সকাল ৮:১৫ মিনিটে কলকাতার মাটি স্পর্শ করে বাগান কোচের বিমান। ভিকুনা ও তাঁর সহকারী টমাসকে সাদরে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষারত ছিলেন বাগান অনুরাগীরা। কোচকে নাগালের মধ্যে পেতেই ফুল-উত্তরীয় দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন বাগান সমর্থকরা। হাজির ছিল বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনও। নয়া কোচকে নিয়ে বিমানবন্দর চত্বরেই কোরাস শুরু করে দেন মেরিনার্সরা। লাগেজ সমস্যার কারণে বিমানবন্দর থেকে বেরোতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগে যায় বাগানের নয়া কোচের।

তবে একেবারেই ধৈর্য্য হারাননি তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পেলেও বাগান সমর্থক ও অনুরাগীদের সেলফির আবদার মেটান ভিকুনা। কলকাতায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে যে তিনি আপ্লুত, হাবেভাবেই বুঝিয়ে দেন বাগানের নয়া কোচ। উল্লেখ্য, দীর্ঘ জল্পনার পর গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন কোচে হিসেবে কিবু ভিকুনার নাম ঘোষণা করে মোহনবাগান। বাগানের কোচ হওয়ার আগে বছর সাতচল্লিশের ভিকুনা পোল্যান্ডের প্রথম ডিভিশন একটি ক্লাবের কোচের দায়িত্বে সামলেছেন।

কোচ হিসেবে অভিজ্ঞ ভিকুনা ২০১২-১৩ মরশুমে পোলিশ লিগ ও পোলিশ কাপ জিতেছেন৷ কোচ হিসেবে ভিকুনা চূড়ান্ত হওয়ার পর মোহনবাগানের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল ‘মোহনবাগানের কোচের দায়িত্ব পেয়ে ও দারুণ খুশি এবং চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত৷ কিবু অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কোচ৷ তরুণদের তুলে আনার ক্ষেত্রে ওর সুনাম রয়েছে৷ মোহনবাগানের মতো ওর ফুটবল দর্শন রয়েছে৷ এছাড়াও ট্রেনিং ও ম্যাচের ক্ষেত্রে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করে থাকে৷’

২০১৫-১৬ মরশুমে পোলিশ সুপার কাপ জয়ী কোচিং দলে ছিলেন ভিকুনা৷ এছাড়াও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের কোচ জ্যান আর্বানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি৷ এছাড়াও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্লে-অফ রাউন্ডে জয়ী কোচিং টিমের সদস্য ছিলেন ভিকুনা৷ বেশ কয়েকজন নামী ফুটবলার যেমন রাহুল গার্সিয়া, সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা, নাচো মনরিয়েল এবং জাভি মার্টিনেজকে কোচিং করিয়েছেন সদ্য মোহনবাগানের কোচ হওয়া এই স্প্যানিশ কোচ৷