শিলিগুড়ি: কোচ থেকে কর্মকর্তা সবাই জানেন, এই একটা ম্যাচই বদলে দিতে পারে সকলের ভাগ্য৷ লিগ না আসে ‘কুছ পরোহা নেহি’, কিন্তু  ডার্বি জেতার আনন্দটাই যে আলাদা৷ দশ মাস আগে এখানে যে আই লিগের কলকাতা ডার্বি হয়েছিল তার সঙ্গে এবারের মিলের চেয়ে অমিলই বেশি৷ আই লিগে বহুদিন পর লিগ টেবলে এক এবং দু’নম্বরে থেকে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান৷ ডার্বিতে কে এগিয়ে? কে পিছিয়ে? সনি না ওয়েডসন? শেষমেশ কে কাকে টেক্কা দেবেন?  ভবিষ্যৎই সেটার উত্তর দেবে৷

রবিবার মরসুমের প্রথম ডার্বি৷ দু’দলই শুক্রবার শিলিগুড়িতে পৌঁছে গিয়েছে৷ শনিবার সকালে দুই দলই অনুশীলন সারল কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে৷ শুরুতে ইস্টবেঙ্গল, পরে মোহনবাগান৷ অনুশীলনে সঞ্জয় সেন যখন দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যস্ত, ইস্টবেঙ্গল কোচ মর্গ্যান সেখানে দেখে নিলেন নিজের দলের ফরোয়ার্ড লাইনকে৷ অবশ্য প্র্যাক্টিস শেষে দু’দলের ফুটবলাররাই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি৷ টিমবাসে ওঠার আগে লাল–হলুদের ওয়েডসন শুধু বলে গেলেন,‘ডার্বিতে গোল পেলে ভাল লাগবে৷ মোহনবাগান ভাল দল৷ সনি নর্ডি বেশ ভাল খেলছে৷ তবে আসল লড়াই তো হবে মাঠে৷’ কার্ডের জন্য আই লিগের আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি মেহতাব হোসেন।‌ ডার্বিতে তিনি দলে ফিরছেন৷ ইস্টবেঙ্গলের বাকি দল থাকছে অপরিবর্তিত৷ অন্যদিকে এএফসি কাপে কলম্বো এফসির বিরুদ্ধে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন বাগান কোচ সঞ্জয় সেন৷ তবে ডার্বিতে আর পরীক্ষা নয়৷ সেরা একাদশই নামাবে সবুজ মেরুন শিবির৷

দীর্ঘদিন পর এমন একটা ডার্বি হতে চলেছে যেখানে দুই দলই রয়েছে ফর্মে৷ কোনও কার্ড সমস্যা নেই৷দুই প্রধানই এই মুহূর্তে চোটমুক্ত৷ এক এবং দুইয়ের লড়াই ঘিরে উত্তাল শিলিগুড়ি৷ উত্তরবঙ্গের হালকা ঠান্ডাকেও হার মানাচ্ছে ডার্বির উত্তাপ৷ ডার্বিতে জয় মানেই পড়শি ক্লাবের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ‌যাওয়া৷ ফলে রবিবারের ডার্বিই হয়তো ঠিক করে দিতে পারে এবারের আই লিগ কার হাতে ‌যাবে৷

এমনিতে শিলিগুড়িকে ইস্টবেঙ্গলের ঘরের মাঠ বলা হয়৷ কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে খেলা হলে লাল-হলুদ দর্শক আসেন কাতারে কাতারে৷ এবারেও ইস্টবেঙ্গলের জার্সি বা লোগো দেওয়া নানা রকমের স্মারক বিক্রির জন্য ক্লাবের দেওয়া স্টল বসে গিয়েছে৷ বিক্রিও হচ্ছে ভালই৷ তবে, ডার্বি হলে লাল-হলুদের শিলিগুড়িতে ভাগ বসায় সবুজ-মেরুনও৷ ম্যাচের সময় পাল্লা দিয়ে চলে প্রিয় দলের হয়ে চিৎকার, স্লোগান৷ এসব নিয়েই উত্তেজনায় ফুটছে শিলিগুড়ি৷