ইম্ফল: খেতাব প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও অতি সন্তর্পণে পা ফেলছেন বাগানের স্প্যানিশ বস কিবু ভিকুনা। ভিকুনার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট বড় পরিসরে না ভেবে ম্যাচ বাই ম্যাচ স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছেন তিনি, আর তাতেই ঘায়েল বিপক্ষ দলগুলো। ট্রাউ ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন তাঁর কাছে আগের ম্যাচগুলোর ফলাফল কোনও গুরুত্ব রাখে না, বরং খেতাবের আরও কাছে পৌঁছতে চান তিনি।

কোচের কথামতো মাঠে তাঁর স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়িত করছেন ফুটবলাররাও। রবিবাসরীয় ইম্ফলেও তার অন্যথা হল না। ট্রাউকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আই লিগ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে গেল সবুজ-মেরুন। বাগানের হয়ে গোল করলেন ফ্রান গঞ্জালেস, জোসেবা বেইতিয়া ও পাপা দিওয়ারা।

চার্চিল ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে এদিন ট্রাউ’য়ের বিরুদ্ধে স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলেন ভিকুনা। সাসপেন্ড আশু মেহতা, গুরজিন্দর কুমার ও আহত ড্যানিয়েল সাইরাসের পরিবর্তে এদিন একাদশে শুরু করেন চুলোভা, ধনচন্দ্র সিং ও কোমরন তুরসুনভ। টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত বাগান প্রত্যাশামতোই এদিন দারুণ ছন্দে শুরু করে এদিনের ম্যাচ। সুহের কিংবা ফ্রান আরেকটু তৎপর থাকলে প্রথম ছ’মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যেতে পারত বাগান। কিন্তু ভিকুনার বাগান এতটাই সঙ্ঘবদ্ধ যে শুরুতেই ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ ফ্রান ১৪ মিনিটে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত সেরে নেন স্পটকিক থেকে দলকে এগিয়ে দিয়ে।

বিপক্ষ গোলকিপার সায়ন রায়কে ভুল দিকে ঠেলে ঠান্ডা মাথায় ১-০ করেন ইউটিলিটি স্প্যানিশ ফুটবলার। এরপর দু’মিনিটের স্পেলে জোড়া গোল তুলে বাগানের জয় একপ্রকার ওখানেই নিশ্চিত করে দেন জোসেবা বেইতিয়া ও পাপা দিওয়ারা। ২২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত ভলিতে ২-০ করেন বেইতিয়া। পরের মিনিটেই তুরসুনভের ডানপ্রান্তিক অ্যাসিস্ট ধরে ব্যবধান ৩-০ করেন সেনেগাল স্ট্রাইকার। ৩৫ মিনিটে ট্রাউয়ের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে আশার সঞ্চার করেন জেরার্ড উইলিয়ামস। ৩-১ এগিয়ে থেকে লকাররুমে যায় বাগান।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দু’গোলে এগিয়ে থাকা মোহনবাগান অনেক বেশি ডিফেন্সিভ মোড়কে ঢুকে যায়। আক্রমণে যাওয়ার পরিবর্তে ডিফেন্সে বল উড়িয়ে খেলায় মন দেন ফ্রান মোরান্তে, ধনচন্দ্ররা। ৭০ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান তাজিকিস্তান স্ট্রাইকার তুরসুনভ। তবে ম্যাচের ফলাফলে তা বিশেষ প্রতিফলিত হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনও দলই গোল করতে না পারায় প্রথমার্ধের স্কোরলাইন ম্যাচের চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

জয়ের ফলে লিগ টেবিলের মগডালে মোহনবাগান নিজেদের অবস্থানকে আরও পোক্ত করল। ১৪ ম্যাচে এখন তাদের সংগৃহীত পয়েন্ট ৩৫। দ্বিতীয়স্থানে থাকা পঞ্জাব এফসি সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে পিছিয়ে ১৩ পয়েন্টে।