কল্যানী: বুধবার আইজল এফসি’র সঙ্গে ড্র করে গোলপার্থক্যের নিরিখে মোহনবাগানকে টপকে লিগের শীর্ষস্থানটা দখল করে নিয়েছিল চার্চিল ব্রাদার্স। কিন্তু শীর্ষস্থানে প্লাজাদের মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হল না। ইন্ডিয়ান অ্যারোজকে হারিয়ে ফের লিগের মগডালে কিবু ভিকুনার দল। সেইসঙ্গে টানা চার ম্যাচ জিতে আই লিগে ছুটছে সবুজ-মেরুনের অশ্বমেধের ঘোড়া। বৃহস্পতিবার কল্যানীতে ১-০ গোলে অ্যারোজকে হারাল বাগান।

কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ছন্দবদ্ধ ফুটবল উপহার দেওয়া একাদশ অপরিবর্তিত রেখেই এদিন অ্যারোজের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল বাগান। শুরু থেকেই বল কন্ট্রোল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণের পথ বেছে নেয় বাগান। ডানপ্রান্ত থেকে আশুতোষ মেহতা ও ভিপি সুহেরকেন্দ্রিক আক্রমণে ভর করে বিপক্ষ গোলমুখ খোলার চেষ্টা করে কিবু ভিকুনার দল। অ্যারজের গোলমুখ খুলতে বেশি সময়ও নেয়নি তাঁরা। ১৮ মিনিটে নংদম্বা নাওরেমের প্রচেষ্টা বিপক্ষ দুর্গে প্রতিহত হলে ২০ গজ দূর থেকে ড্যানিয়েল সাইরাসের দূরপাল্লার শট চখের পলকে খুঁজে নেয় গোলের ঠিকানা।

ত্রিনিদাদ ডিফেন্ডারের গোলের মিনিট ছ’য়েকের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিতে পারত বাগান। কিন্তু আশুতোষ মেহতার ডানপ্রান্তিক সেন্টার থেকে কেরল স্ট্রাইকার ভিপি সুহেরের শট দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় রক্ষা করেন অ্যারোজ গোলরক্ষক জংতে। প্রতি আক্রমণে বারকয়েক বাগান রক্ষণে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে সম্মুগম ভেঙ্কটেশ প্রশিক্ষনাধীন ভারতীয় ফুটবলের ছোটরা। কিন্তু ফ্রান মোরান্তে, আশুতোষ মেহতারা তটস্থ থাকায় কোনও বিপদের সঞ্চার হয়নি বাগান রক্ষণে। প্রথমার্ধ এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাগান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোহনবাগানের দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় পোস্ট। ৪৮ মিনিটে ড্যানিয়েলের সাইরাসের প্রচেষ্টা ক্রসবারে প্রতিহত হয় ও তার অনতিপরেই কর্নার থেকে মোরান্তের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পোস্টের সহায় নিয়ে ম্যাচে ফিরতেই পারত অ্যারোজ। ৫১ মিনিটে ম্যাচে প্রথম ইতিবাচক সুযোগ আদায় করে নেয় অ্যারোজ। গোলের সামনে মনবীর সিং আরেকটু তৎপর থাকলে সমতায় ফিরতে পারত তাঁরা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় অ্যারোজ। একটি ক্ষেত্রে অ্যারোজের এক ডিফেন্ডার পেনাল্টি বক্সে বল হাতে লাগালেও তা এড়িয়ে যায় রেফারির দৃষ্টি।

তবে তা বাগানের জয়ের পথে কোনওভাবেই কাঁটা হয়ে উঠতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট বাগান রক্ষণের উপর চাপ বজায় রাখলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি অ্যারোজ। সংযুক্তি সময়ে বিপক্ষের একটি প্রয়াস গোললাইন সেভ করে সবুজ-মেরুনের ত্রাতা হয়ে ওঠেন নয়া বিদেশি পাপা দিওয়ারা। জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে শেষে বাগানের সংগ্রহে ১৩ পয়েন্ট। দ্বিতীয়স্থানে থাকা চার্চিলের সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ১০।