কল্যানী: চার মাস আগে ডুরান্ড ফাইনালে হারের তিক্ত স্মৃতি নিয়েই সোমবার কল্যানীতে গোকুলাম কেরালার মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান। তাই ডার্বির ঠিক আগে টানা দু’ম্যাচ জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ডুরান্ড ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার বিষয়টিও মাথায় ছিল কলকাতার ক্লাবটির। আই লিগে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে কল্যানীতে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বদলা তো নেওয়া হলোই, পাশাপাশি বড় ম্যাচের আগে টানা দ্বিতীয় জয়ে লিগ টেবিলে দু’নম্বরে উঠে এল মোহনবাগান। ফ্রান গঞ্জালেসের জোড়া গোলে জিতে ডার্বির মহড়া সারল সবুজ মেরুন।

ট্রাউ এফসি’র বিরুদ্ধে গত ম্যাচে জিতে লিগ টেবিলে ইস্টবেঙ্গল শীর্ষে চলে যাওয়ায় এদিন মোহনবাগানের ম্যাচ জয়ের তাগিদটা ছিল অনেকটা বেশি। কারণ জয় পেলে যে পড়শি ক্লাবের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে স্নায়ুর যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া যাবে, সেটা হাড়ে-হাড়ে জানতেন কিবু। তাই মার্কাস জোসেফ, বাগানের প্রাক্তনী হেনরি কিসেকা সমৃদ্ধ বিপক্ষের আক্রমণভাগকে সমীহ করেও বড় ম্যাচের আগে তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়েছিলেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে ফ্রান গঞ্জালেসের প্রথম গোলে কিবুর সেই লক্ষ্য প্রাথমিকভাবে সফল হয়। ট্রাউ ম্যাচের পর এদিন ফের ঝলসে ওঠেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ঘরের মাঠে আক্রমণের ফসল তুলে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় এদিন পেনাল্টি আদায় করে নেয় সবুজ-মেরুন। এক্ষেত্রে বক্সে আগুয়ান আশুতোষ মেহতাকে বক্সের মধ্যে অবৈধভাবে বাধা দেওয়া হলে নায্য পেনাল্টি পায় হোম টিম। স্পটকিক থেকে তিনকাঠিতে বল রাখতে কোনও ভুলচুক করেননি ট্রাউ ম্যাচে জোড়া গোলের নায়ক।

কিন্তু প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে নিজেদের বক্সে মিতেইকে ফাউল করে বিপদ ডেকে আনেন বাগানের এক ডিফেন্ডার। গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে আসে গোকুলাম। এক্ষেত্রে পেনাল্টি থেকে গোল করে যান তাদের ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগো স্ট্রাইকার মার্কাস জোসেফ। মনে করা হয়েছিল গোল পেয়ে বিরতির পর বাড়তি উদ্যম নিয়ে ঝাঁপাবে গোকুলাম। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কল্যানীর প্রায় ১৪,০০০ দর্শককে ফের মাতিয়ে তোলেন ফ্রান গঞ্জালেস। বেইতিয়ার কর্নার থেকে গোল করে ফের দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।

পিছিয়ে পড়ে বাগানের রক্ষণে বিক্ষিপ্ত আক্রমণ শানাতে থাকে গোকুলাম। সালাহ, জোসেফদের একাধিক গোল লক্ষ্য করে শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ অবধি গোল শোধ করে আর ম্যাচে ফেরা হয়ে ওঠেনি কেরলের দলটির। উলটোদিকে ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারেনি বাগানও। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গঞ্জালেসের গোলই তিন পয়েন্টে এনে দেন বাগানকে। এই জয়ের ফলে ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এল কলকাতা জায়ান্টরা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।