কলকাতা: গুরুকে মাত নিলেন শিষ্য৷ ভৌমিক স্যারের ফুটবল মস্তিষ্কের বিরুদ্ধে বেশ লড়াই করেই জয় পেলেন শিষ্য শংকর৷

উল্ফদের বিরুদ্ধে আফ্রিকান সিংহ অস্ত্রেই তিন পয়েন্ট পকেটে পুড়লেন বাগান হেডস্যার৷ ম্যাচের আগে ক্রো -কা’র জোড়া ফলাকে আফ্রিকান সিংহের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন একদা শংকরের কোচিং নির্দেশক সুভাষ৷

আসিয়ান জয়ী কোচের চোখ যে বাগানের দুই রত্নকে চিনে নিতে ভুল করেনি মাঠে সেটাই প্রমান করে দিলেন কামো-ক্রোমা৷ সবুজ-মেরুণ জার্সিতে ময়দান মাতাচ্ছেন আইভরি কোস্ট-লাইবেরিয়ান জুটি৷ প্রথমার্ধের একমাত্র গোলটাও এল সেই ক্রো-কা জুটির হাত ধরেই৷

আরও পড়ুন- ‘কে স্কোয়ার’ জুটিতে চারে চার বাগানের

১৬ মিনিটের মাথায় কামোর ব্যাক হিল থেকে বল পেয়ে জোড়ালো শট ক্রোমার৷ সেই শটের শাহরুখ ভক্তের এদিনের প্রথম গোল৷ সংঘবদ্ধ ফুটবল আর টিম ওয়ার্কের ফসল বলা যেতে পারে৷ দিনের শেষে এই গোলের ভিডিও  সোশ্যাল মিডিয়ায় বাগান ভক্তদের ফ্যান পেজে যে ঝড় তুলতে চলেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না৷

প্রথমার্ধে গোল করে এদিন নামের পাশে চার গোল লিখিয়ে ফেলল ক্রোমা৷   কয়েকটা সুযোগ নষ্ট না করলে গোল পার্থক্য বাড়াতে পারত মোহনবাগান৷ ক্রোমার পাশাপাশি এদিন বেশ কয়েকটা জোড়ালো শটে ফের নজর কাড়লেন কামো৷ গোল না পেলেও বাগান জনতার মনে দাগ কাটতে পেরেছেন তিনি৷ ৩৭ মিনিটে কামোর শট টলি গোলরক্ষক আটকে না দিলে তখনই ২-০ করে ফেলত বাগান৷

আরও পড়ুন- চতুর্থীতেই মেগা ডার্বি, মাঠ কাঁপাবে ইস্ট-মোহন

গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন সবুজ তোতা৷ ব্যারোটোর জন্মদিনে ক্রো-কা জুটির এমন নজরকাড়া ফুটবল অবশ্যই তাঁকে স্বস্তি দিল বলা চলে৷ সার্দানের বিরুদ্ধে লিগ শুরুর প্রথম ম্যাচে এই জুটিকেই বাগান জার্সির ওজন বুঝিয়ে পেপ টক দিয়েছিলেন ব্যারেটো৷ ড্রেসিংরুমে সেদিনের ভোকাল টনিকে এখন ক্রো-কা’র  ঝাঁঝটাই আলাদা৷ বাগানের দেওয়া ১৫ টা গোলের ১০টা এসেছে কা-ক্রো যুগলবন্দিতে৷

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ছন্নছাড়া ফুটবল রোগটা গেল না৷ লিগের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোয় প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলার রোগে ধরেছিল৷ মাঝে সেটা কাটাতে পারলেও আজকের ম্যাচের সেকেন্ড হাফে ফের মেরুণ আবীর যেন বেরঙীন৷

আরও পড়ুন- বাগান জনতাকে লিগ দিতে চান কামো

দ্বিতীয়ার্ধে আজারকে বসিয়ে পিন্টু মাহাত আর চেস্টারকে বসিয়ে নিখিলকে নামান শংকর৷ পরিবর্ত নিখিলই শেষ পর্যন্ত ইন্সুরেন্স গোলটা এনে দেন৷ ৮২ মিনিটে স্পট জাম্প দিয়ে হেড, ড্রপ শট সেটাই টলির জালে জড়ায়৷ আর তাতেই ২-০ করে সবুজ-মেরুন৷

সুভাষের দল অবশ্য একাধিক সুযোগ মিস না করলে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারত৷৮০ মিনিটে সিবিনরাজকে একা পেয়েও গোলের সুযোগ নষ্ট করে টলিগঞ্জ৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প