সাউদাম্পটন: পাক ম্যাচে ভুবনেশ্বর কুমার চোট পাওয়ায় আফগানিস্তান ম্যাচে প্রথম একাদশে তাঁর ভাগ্যের শিঁকে ছেঁড়ে। আর চলতি বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগেই বাজিমাত। শুধু বাজিমাত বললে ভুল হবে, নিজেকে উচ্চতার শিখরে তুলে ধরে ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগেই এলিট ক্লাবে এন্ট্রি নিয়ে নিলেন বঙ্গ পেসার মহম্মদ শামি। চেতন শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় এবং অবশ্যই বাংলার প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বক্রিকেটের মেগা আসরে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করলেন তিনি।

বিশ্বের দশম বোলার হিসেবে অনন্য এই মাইলস্টোন ছুঁলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার। মহম্মদ নবির নেতৃত্বে সাউদাম্পটন বোলে চলতি বিশ্বকাপে যখন সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটানোর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছে আফগান দল, ঠিক তখনই শেষ ওভারে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বাংলার এই পেসার। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শামিকে বেকায়দায় ফেলে দেন মহম্মদ নবি। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতেও হিমশীতল মানসিকতার পরিচয় দিলেন কোহলির দলের স্ট্রাইক বোলার।

দ্বিতীয় বল ডট দিয়ে দারুণভাবে কামব্যাক করেন বঙ্গ পেসার। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে একে একে শামির শিকার হন মহম্মদ নবি, আফতাব আলম ও মুজিব উর রহমান। দলকে ১১ রানের কাঙ্খিত জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি চেতন শর্মা, সাকলিন মুস্তাক, ব্রেট লি কিংবা লাসিথ মালিঙ্গাদের মত তারকাদের সঙ্গে নিজেকে একাসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি।

১৯৮৭ দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকটি এসেছিল ভারতীয় পেসার চেতন শর্মার হাত ধরে। এরপর বিশ্বকাপের ৭টি সংস্করণে ক্রিকেট অনুরাগীরা আরও ৮ বার হ্যাটট্রিকের সাক্ষী থাকলেও আর কোনও ভারতীয় বোলার এই অনন্য নজিরের স্বাদ পাননি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শামির হ্যাটট্রিকে ভর করে দেশের অনুরাগীরা যেন ডুব দিলেন সেই ৩২ বছর আগের স্মৃতিতে। সৌজন্যে মহম্মদ শামি।

আফগান স্পিনারদের দাপটে সাউদাম্পটনে এদিন ব্যাটে খানিল নিষ্প্রভ ছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। তবে ২২৪ রানের স্বল্প পুঁজি নিয়েও সামির স্পেলে শুরু থেকেই আশার আলো দেখতে শুরু করে কোহলি ব্রিগেড। প্রথম ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে শামি এদিন ১টি উইকেট ভরে নেন ঝুলিতে। দ্বিতীয় স্পেলে ৩৪ রান খরচ করলেও ফাইনাল ওভারে অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা দেন শামি। স্লগ ওভারে তাঁকে যথাযোগ্য সাহায্য করেন সতীর্থ জসপ্রীত বুমরাহ। শেষ অবধি ৯.৫ ওভারে হ্যাটট্রিক সহ ৪ উইকেটে শামির স্বপ্নের স্পেলের পরিসমাপ্তি ঘটে।

একনজরে বিশ্বকাপের আসরে হ্যাটট্রিকের পরিসংখ্যান:
চেতন শর্মা – বিপক্ষ নিউজিল্যান্ড (১৯৮৭)
সাকলিন মুস্তাক – বিপক্ষ জিম্বাবোয়ে (১৯৯৯)
চামিন্ডা ভাস – বিপক্ষ বাংলাদেশ (২০০৩)
ব্রেট লি – বিপক্ষ কেনিয়া (২০০৩)
লাসিথ মালিঙ্গা – বিপক্ষ দক্ষিন আফ্রিকা (২০০৭)
কেমার রোচ – বিপক্ষ নেদারল্যান্ড (২০১১)
লাসিথ মালিঙ্গা – বিপক্ষ কেনিয়া (২০১১)
স্টিভেন ফিন – বিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া (২০১৫)
জেপি ডুমিনি – বিপক্ষ শ্রীলঙ্কা (২০১৫)
মহম্মদ শামি – বিপক্ষ আফগানিস্তান (২০১৯)

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প