অভিষেক কোলে: অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে শামির ওয়ার্কলোডের দিকে তাকিয়ে বিসিসিআই তাঁর জন্য প্রতি ইনিংসে ১৫ ওভারের একটা কোটা বেঁধে দিয়েছিল৷ অবশ্য কড়াকড়ি ছিল না৷ প্রয়োজনে দু-চার ওভার বেশি বল করালেও বোর্ড আপত্তি করবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন বাংলা অধিনায়ক মনোজ এবং মেন্টর অরুণ লাল৷

তবে ইডেনে কেরলের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে শামি একাই বল করেন ২৬ ওভার৷ যার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি পয়েন্টের জন্য মরিয়া বাংলা টিম ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে শামির উপর বাড়তি চাপ দিয়েছে? উত্তরটা জানা গেল দ্বিতীয় দিনের খেলার শেষে৷

আরও পড়ুন: জলজের শতরানে ইডেনে হারের আতঙ্কে বাংলা

সংশয়টা দূর করলেন শামি নিজেই৷ বোর্ডের নির্ধারণ করে দেওয়া সীমার কথা অস্বীকার না করলেও শামি বলেন, তিনি নিজের দায়িত্বেই বাড়তি বল করেছেন৷ অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে লাল বলে ম্যাচ প্র্যাক্টিসের জন্য কেরলের বিরুদ্ধে নিজেউ খেলতে চাওয়া শামি জানান, বল করার মতো অবস্থায় ছিলেন বলেই দলের প্রয়োজনের সময় নিজেকে চ্যালেঞ্জ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেননি৷

শামির কথায়, ‘যখন আপনি নিজের রাজ্য দলের হয়ে খেলতে নামেন, তখন নিজের ভূমিকা যথাযথ পালণ করা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ বল করতে আমার কোনও অস্বস্তি হচ্ছিল না৷ বরং এমন পিচে বল করতে ভালো লাগছিল৷ তাই যতক্ষণ সম্ভব বোলিং করে গিয়েছি৷ আমি নিজেই বল করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’

আরও পড়ুন: ম্যাচে ব্যাকফুটে হলেও শরীরি ভাষায় আগ্রাসী মনোজরা

পরে শামি আরও যোগ করেন, ‘অন্য কোথাও নেটে প্র্যাক্টিস করার থেকে নিজের দল তথা নিজের রাজ্যের হয়ে ম্যচে বল করা অনেক ভালো৷ এখানে যত বেশি বল করতে পারব, অস্ট্রেলিয়ায় তত সুবিধা হবে৷ এটাই আদর্শ প্রস্তুতির মঞ্চ৷ আমি মনে করি, ম্যাচ প্র্যাক্টিশেই কোনও সফরের জন্য নিজেকে যথাযথ প্রস্তুত করা যায়৷ আমি সবসময় এটাকেই অগ্রাধিকার দেব৷ দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে বল করছিলাম৷ আমার সব বন্ধুরা ছিল মাঠে৷ তাই বল করতে দারুণ লাগছিল৷’

শেষে অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে শামি বলেন, ‘প্রস্তুতি মন্দ হয়নি৷ যথাযথ ট্রেনিং ছাড়াও প্র্যাক্টিস ম্যাচও পাওয়া গিয়েছে৷ এই ম্যাচ প্র্যাক্টিসটা দরকার ছিল৷ সুতরাং টেস্টের জন্য আমি তৈরি৷’

আরও পড়ুন: ইডেনের সতেজ পিচে আগুন ঝরানোর অপেক্ষায় শামি

দিনের শেষে বাংলা কোচ সাইরাহ বাহুতুলে শামির দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে যান৷ মাঠ ছাড়ার সময় তিনি বলেন, ‘শামি নিজে বল করার জন্য মরিয়া ছিল৷ তাই ও বোলিং চালিয়ে গিয়েছে৷ ওর উপর কোনও চাপ দেওয়া হয়নি৷ বোর্ডের তরফে ১৫ ওভারের সঙ্গে দু’তিন ওভার অতিরিক্ত বল করানো যাবে বলে জানানো হয়েছিল৷ তবে সবটাই নির্ভর করছিল ওর উপর৷ আসলে ও ভালো বল করছিল৷ ওকে বিশ্রাম নেওয়ার কথা বলা হলেও কোথাও কোনও অসুবিধা হচ্ছিল না বলে ও নিজেই বোলিং করতে চায়৷’

যদিও শামির লম্বা বোলংয়েও বাংলা চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি৷ ২৬ ওভার বল করে তিনটে মেডেনসহ ১০০ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন শামি৷ ইডেনে বাংলা প্রথম ইনিংসের নিরিখে পিছিয়ে পড়ে ১৪৪ রানে৷ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রানের মধ্যে একটি উইকেটও হারিয়ে বসেছে তারা৷