করাচি: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মনোসংযোগ করতে টেস্টকে বিদায় জানালেন মহম্মদ আমের৷ অর্থাৎ আর লাল বলে সুইং করাতে দেখা যাবে না পাকিস্তানি এই বাঁ-হাতি পেসারকে৷ তবে ওয়ান ডে এবং টি-২০ ক্রিকেটে এখনও সবুজ জার্সিতে দেখা যাবে আমেরকে৷

২৭ বছর বয়সেই থেমে গেল আমেরের টেস্ট কেরিয়ার৷ মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হলেও বছর ১০ বছরে মাত্র ৩৬টি টেস্ট খেলেছেন বাঁ-হাতি পাক পেসার৷ এর একমাত্র কারণ ২০১০ লর্ডস টেস্টের কলঙ্কিত অধ্যায়৷ ন’বছর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টে স্পট-ফিক্সিংয়ের অন্যতম চরিত্র ছিলেন আমের৷ তাঁর ইচ্ছেকৃত নো-বল ক্রিকেটের সামনে পাকিস্তান ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করে৷ স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পাঁচ বছর নির্বাসিত হন আমের৷

পিসিবি-র তরফে এক বিবৃতিতে শুক্রবার আমেরের টেস্ট অবসর সম্পর্কে জানানো হয়৷ তবে টেস্ট থেকে অবসর নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নামবেন এই বাঁ-হাতি পেসার৷ বিবৃতিতে আমের জানান, ‘ক্রিকেটের ঐতিহ্যের এই ফর্ম্যাটে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পেয়ে আমি গর্বিত৷ তবে এখন থেকে আমি সাদা বলে মনোসংযোগ করার জন্য টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালাম৷ তবে দেশের হয়ে খেলে যাওয়াটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য৷ শারিরীক ক্ষমতা ধরে রেখে আগামী বছর আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করায় আমার চ্যালেঞ্জ৷’

সিদ্ধান্ত নেওয়াটা যে সহজ ছিল না, তা জানাতে ভোলেনি আমের৷ তিনি জানান, ‘অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম৷ কিন্তু আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ঠিক আগেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না৷ পাকিস্তান অনেক দারুণ ফাস্ট বোলারের জন্ম দিয়েছে৷ সুতরাং টেস্ট ক্রিকেটকে সরে দাঁড়ানোর এটাই ঠিক সময়৷’

২০০৯-এ মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয় আমেরের৷ ১০ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ৩৬টি টেস্টে ১১৯টি উইকেট নিয়েছেন বাঁ-হাতি এই পাক পেসার৷ ইনিংসে চারবার পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন আমের৷ সেরা বোলিং কিংস্টনে ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নেওয়া ৪৪ রানে ৬ উইকেট৷

পাঁচ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ২০১৭ ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন আমের৷ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে দুরন্ত বোলিং করে দেশকে ট্রফি দেন আমের৷ ২০১৯ বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ১৫ জনের দলে না-থাকলেও টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে তাঁকে দলে নেয় পাকিস্তান৷ বিশ্বকাপেও ভালো বোলিং করেন বাঁ-হাতি এই পাক পেসার৷