স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা:  লোকসভার আগে, রথযাত্রার মাঝেই এবার শিলিগুড়িতে সভা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, প্রায় সবকিছু ঠিকঠাক, তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যালয় থেকে চূড়ান্ত সম্মতি আসতে বাকি৷

প্রসঙ্গত, বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রার তিনটি ভাগে বিভক্ত- কোচবিহারে তা শুরু হবে ৭ ডিসেম্বর, গঙ্গাসাগরে শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর এবং তারাপীঠে ১৪ ডিসেম্বর৷ জানা গিয়েছে, এই রথযাত্রার মাঝেই আরও কয়েকটি জায়গায় সভা করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী৷

পড়ুন: ৬৩ বিলিয়নের ঘাটতি মেটাতে মোদী সরকারের প্রস্তাবে ‘না’ চিনের

বঙ্গে বিজেপির রথযাত্রার হাতে গোনা দিন ৩ বাকি৷ আপাতত যা ঠিক হয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর শিলিগুড়ি শহরে সভা করবেন মোদী৷ রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, রথযাত্রা চলাকালীন বাংলায় ৪টি জনসভা করবেন মোদী৷ আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, তিনটি রথযাত্রার প্রত্যেকটিতেই থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ ঘুরবেন ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র৷

সেক্ষেত্রে এই প্রথমবার বাংলায় মোদী-শাহকে এক মঞ্চে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷ এক মঞ্চে মোদী-শাহকে একসঙ্গে পাওয়ার খবর শোনার পর রীতিমতো চাঙ্গা মুকুল রায়েরা৷

চলতি বছরের জুলাই মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরে কলেজ কলেজিয়েট মাঠে জনসভা করতে দিয়ে বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে৷ তাঁর সামনেই তিনি মঞ্চ ভেঙে পড়তে দেখেন৷ আহতদের দেখতে শেষমেষ হাসপাতালে ছুটতে হয় মোদীকে৷ পরবর্তীকালে, মঞ্চ ভাঙা নিয়ে রাজ্যে শাসকদলের গঞ্জনা হজম করতে হয়েছে বিজেপিকে৷

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘যাঁরা একটা প্যান্ডেল বানাতে পারে না … তাঁরা নাকি দেশ চালাবে৷ তাহলেই বুঝুন৷’’ এরপর অবশ্য রাজ্য বিজেপি’তে অনেক কাণ্ড ঘটে গিয়েছে৷ মঞ্চ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য নেতৃত্বকে কেন্দ্র পার্টির সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল৷ পার্টির কাজকর্ম থেকে বাদ দেওয়া হয় অভিযুক্ত ওই ডেকরেটরকেও৷

পড়ুন: রোজগার মাত্র ১০০০, মোদীকেই সেই টাকা পাঠালেন ক্ষুব্ধ কৃষক

তবে বাংলার রথযাত্রাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টির এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পূর্বপ্রান্তই হাসি ফোটাবে নরেন্দ্র মোদীর মুখে ৷ দিল্লির ১১ নম্বর অশোক রোডের বাসিন্দারা জানেন পূর্বদিকই উদিত সূর্যের মতো বিজেপিকে আলো দেখাচ্ছে৷ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দেশের পূর্বদিক থেকে ১০টি আসন পেয়েছিল৷ সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে যে বাড়বে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত গেরুয়া শিবির৷ বিজেপির নিজস্ব যা হিসেব, অতিরিক্ত ২৫টি আসন পূর্ব ভারত থেকেই আসবে৷

পার্টির মূল নজর – ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের দিকে৷ কাজটা কঠিন তবে, ওড়িশায় কংগ্রেসের জায়গা নিতে চাইছে বিজেপি৷ একই ভাবে পশ্চিমবঙ্গে বামদলগুলির ভোটব্যাংকে নজর রয়েছে গেরুয়া শিবিরের৷ সব মিলিয়ে পূর্বভারত থেকেই ৩৫টি আসনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বিজেপি৷ দেশের অন্য প্রান্তে আশানুরূপ ফল করতে পারছে না বিজেপি৷ দক্ষিণ এবং পশ্চিম প্রান্তেও হতাস হয়েছেন বিজেপি নেতারা৷ এই অবস্থায় পূর্ব দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা৷