কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণ বিধির বিন্দু মাত্র তোয়াক্কা করেন না – অভিযোগ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরাকে লেখা চিঠিতে সীতারাম লিখেছেন, মনে হচ্ছে দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্বাচন কমিশনের কোনও নিয়মই খাটে না৷ মোদীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না৷

সীতারাম ইয়েচুরির বক্তব্য, একটি খবরের চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে মোদী বলেছেন, বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করতে তিনি বায়ুসেনার অনুমতি দিয়েছিলেন খারাপ আবহাওয়াতে৷ কারণ, প্রধানমন্ত্রী মোদীর মনে হয়েছিল মেঘলা আকাশে ভারতীয় যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি ব়্যাডারে ধরা পড়বে না৷

সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন, দেশজুড়ে পণ্ডিতরা তাকে সমালোচনা করেন৷ কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারেনি, বড় বড় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের দাবিকে দূরে সরিয়ে বায়ুসেনাকে আক্রমণ তিনিই বলেছিলেন৷ মোদীর এই মন্তবের পর বিতর্কের ঝড় ওঠে৷ প্রতিরক্ষা সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি একজন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনতে পারেন – তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে৷

এই সীতারামের বক্তব্য, দেশের ষষ্ঠ দফা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী এই ঘরণের মন্তব্য করেছেন৷ নির্বাচন কমিশনের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্দে ব্যবস্তা নেওয়া উচিত৷ সীতারাম নিজের চিঠিতে বলেছেন, সাক্ষাৎকারে মোদী বলেছেন, অনেকেই বলছেন মোদী নির্বাচনের সময় কেন এত জঙ্গি মারছেন? জঙ্গিরা আক্রমণ করবেন, আর জাওয়ান কী নির্বাচন কমিশনে জঙ্গিদমনের অনুমতি নিতে যাবেন? – এই মন্তব্যে মোদী নিজেই জঙ্গি মেরেছেন বলে দাবি করছেন৷ যা নির্বাচনী বিধি ভেঙেছে৷

মডেল কোড অব কনডাক্ট বা নির্বাচনী বিধি কী বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে? কিছুদিন আগেই নিজের ব্লগে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ কংগ্রেস পার্টিকে দেখে মনে হচ্ছে ওরা ক্রন্দনরত শিশু৷ শিশুর মতো কান্নাকাটি শুরু করেছে৷ বক্তার নাম অরুণ জেটলি৷ দেশের অর্থমন্ত্রীর আরও দাবি করেছিলেন, কংগ্রেস সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন মরশুমে বারবার অভিযোগ করে চলেছে যে তাদের বিরোধীরা নির্বাচন বিধি ভাঙছে৷ তাদের মনে রাখা প্রয়োজন, নির্বাচনী বিধি বা আদর্শ আচরণবিধি কখনও বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না৷

জেটলি লিখেছিলেন, ‘‘নির্বাচনী বিধি বা আদর্শ আচরণবিধি কখনই বাক স্বাধীনতাকে হরণ করতে পারে না৷ দুটির বন্দুত্বপূর্ণ সহাবস্থান প্রয়োজন৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘সংবিধানের ধারা ৩২৪ নির্বাচন কমিশনকে আইনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে কাজ করার অধিকার দেয়নি৷ বরং, বলা হয়েছে যেখানে আইন প্রবেশ করতে পারে না, সেখানে নির্বাচন কমিশন পৌছে যাক৷’’ সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার দিয়েছে৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করছে যে তাদের বিরোধীরা বিভিন্ন মন্তব্য করছে৷ তাদের আইনটা বোঝা প্রয়োজন৷