শেখর দুবে, কলকাতা: সমর্থকদের রোদ থেকে বাঁচাতে ছিল জার্মান সিলভারের ছাওনি৷ বসার সু-বন্দোবস্তও ছিল৷ কিন্তু জন-সমাগম কী তেমনটা হল, যেটা হওয়ার আশা করছিলেন রাজ্য বিজেপির নেতারা? খুব সহজভাবে উত্তর দিলে, না৷ ব্রিগেডে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার নামছে তখনও ছাউনির বাইরের বেশিরভাগ জায়গা ফাঁকা৷

গত ১৯ জানুয়ারির রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র ব্রিগেডের তুলনায় মোদীর ব্রিগেড সভার জনসমাগম অনেকটাই কম৷ এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷

এম কে স্টালিন, এইচ ডি দেবেগৌড়া, এই ডি কুমারস্বামী, শরদ যাদব, অজিত সিং, ফারুখ আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরীবাল, অর্জুন খাড়গে,তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন এ দৃশ্য শেষ চার দশকে বাংলার রাজনীতি দেখেনি৷ ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড মঞ্চ থেকে সেটাই করে দেখিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ লোকের আসার কথা বলা হয়েছিল৷ তবে ১০ লক্ষ না হলেও পাঁচলক্ষের বেশি জন সমাগম হয়েছিল তৃণমূলের ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার’ ব্রিগেডে তা জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ৷

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার পর বুধবার(এপ্রিল ৩) রাজ্যে প্রথম নির্বাচনী সভা করতে আসেন নরেন্দ্রে মোদী৷ শিলিগুড়িতে সভা সেরে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন মোদী৷ যদিও মোদীর এই জনসভায় আসা সমর্থকদের সংখ্যাটা দুই থেকে আড়াই লক্ষের মধ্যেই ঘোরা ফেরা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

যদিও এই মতের সঙ্গে একেবারেই সহমত নন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা ব্রিগেড শেষে কলকাতা২৪x৭-কে বলেন, ‘‘বিগ্রেড পূর্ণ হয়েছে৷ লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন৷ মোদীজীর ব্রিগেডে যা লোক হয়েছে তার সিকিভাগ লোকও হয়ে থাকেনি তৃণমূলের ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেডে৷’’

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পান শেখ মুজিবর। এরপর তাঁকে ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই ৬ ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ একত্রে ব্রিগেড থেকে বাংলা তথা ভারত এবং বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন৷ সেই সভায় ১০ লক্ষেরও বেশি লোক হয়েছিল বলে মনে করা হয়৷ ব্রিগেডে জনসমাগমের সেই রেকর্ড অক্ষুন্ন থাকল মোদীর সভার পরও৷