স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জেএনইউ-এর ছাত্র নেতা উমর খলিদের উপর গুলিচালনার ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নানান দিক থেকে অভিযোগ উঠে আসছে৷ ট্যুইটারে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের ভাবনা ব্যক্ত করেছে উমর৷

ওই ছাত্র নেতার বক্তব্য, ‘‘মোদীজি স্বাধীনতা দিবসে আপনার ভাষণের ব্যাপারে জনগণের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন৷ আমার পরামর্শ, আপনি কী গ্যারান্টি দিতে পারেন, যারা আপনার সরকারের বিরোধীতা করবে, ব্যর্থতা তুলে ধরবে, তাঁদের ওপর কোনও আক্রমণ হবে না?’’

সোশ্যাল মিডিয়ায় উমরের প্রশ্ন, দেশে যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরাই আক্রান্ত হয়েছেন৷ কয়েকজন খুন হয়েছেন৷ তালিকাটা দীর্ঘ, ধাবোলকার, কুলবর্গী, পানসারে, গৌরী লঙ্কেশ …৷ তবে বন্দুকের নলটা আমার দিকেও ঘুরবে বলে মনে হয়৷ ১৫ অগস্ট আমরা যে স্বাধীনতা দিবস পালন করি তার প্রাসঙ্গিকতা তাহলে কোথায়? সরকারকে সমালোচনা করলেই যদি মরতে হয়, তাহলে আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায়?

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, সোমবারই ‘ভয় থেকে স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিতে বেরিয়েছিলেন উমর৷ অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজা তাকে দিল্লির Constitution Club of India – এর সামনে নিশানা বানায়৷ উমরের আশঙ্কা, রাজধানীর কড়া নিরাপত্তা বেষ্ঠনী ভোদ করে যে আততীয় তাঁকে খুন করতে এসেছিলেন বা ভবিষ্যতেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সরকার শুধু অজ্ঞাতপরিচয় বলেই হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না৷

উমরের মতে, ‘‘কিছু চ্যানেলের প্যানেল-বক্তারা এবং সেই চ্যানেলের সঞ্চালকরা প্রচার করছে যে তিনি দেশদ্রোহী৷ তাঁরা মিথ্যা কথা প্রচার করছে৷ আর চ্যানেলের এই প্রচারের ফলেই সারা দেশেই মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসীদের উপর আক্রমণ বাড়ছে৷ বাড়ছে গণপিটুনি৷ কিছু বিজেপি নেতা, যেমন সাংসদ মীনাক্ষী লেখি বারবার বলছেন, আমার ওপর কোনও আক্রমণই হয়নি৷ পুরটাই নাকি আমার বানানো৷ হিন্দু উগ্রপন্থীরা গৌরি লঙ্কেশকে খুন করেছে৷ তবুও তদন্তকারীরা বলেছে, অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী তাঁকে খুন করেছে৷ ওই আততীয়রা কতদিন অজ্ঞাতপরিচয় থাকবে? রাষ্ট্রীয় মদত যতদিন থাকবে, ততদিনই অজ্ঞাতপরিচয় থাকবে৷’’