অযোধ্যা: বহু বছরের বিতর্ক শেষে অবশেষে রাম মন্দিরের ভূমি পূজা হবে বুধবার। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে হবে সেই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। রূপোর ইঁট স্থাপন করে রাম মন্দিরের সূচনা করবেন তিনি। এছাড়া, অযোধ্যায় তাঁর হাতেই রপোণ হবে পারিজাত বৃক্ষ।

কী এই পারিজাত বৃক্ষ?

অমৃতের সন্ধানে দেবতা ও অসুররা মন্দার পর্বতকে মন্থনদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সমুদ্র থেকে তুলে এনেছিলেন একের পরে এক আশ্চর্য বস্তু। আর সেই সমুদ্র মন্থনে উঠে এসেছিলেন লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত হস্তী, উচ্চৈশ্রবা অশ্ব, অপ্সরাকুল, কামধেনু, চন্দ্র ইত্যাদি, এবং অবশ্যই হলাহল বিষ ও অমৃত। এসব ছাড়াও সেই মন্থনে উঠে এসেছিল এক আশ্চর্য বৃক্ষ, যার নাম পারিজাত।

পরবর্তী কালে স্বর্গের বর্ণনায় বার বার পুরাণে এই পারিজাতের নাম শোনা গিয়েছে। ইন্দ্রের নন্দন কাননে প্রধান গাছটিই ছিল পারিজাত, এমন কথা হিন্দু পুরাণে স্থান পেয়েছে। ‘হরিবংশ পুরাণ’-এর উল্লেখ আছে। পারিজাত একটি ‘কল্পতরু’, এর কাছে যা প্রার্থনা করা যায়, তা-ই নাকি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এ কথাও বলা হয়েছে, বেশিরভাগ পারিজাত স্বর্গে থাকলেও মর্ত্যভূমে একটি মাত্র গাছ নাকি রয়ে গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের বরবাঁকি জেলার কিন্তুরে একটি বাওবাব জাতীয় গাছকে পারিজাত বলে সম্বোধন করা হয়। মহাভারত-এর অন্যতম চরিত্র পাণ্ডবমাতা কুন্তির নাম থেকে এই স্থানের নামকরণ হয় বলে মনে করা হয়। কিংবদন্তি অনুযায়ী, এখানকার অসংখ্য প্রাচীন মন্দিরের একটি নাকি স্বয়ং কুন্তি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত।

মনে করা হয়, কুন্তিকে এখানেই দাহ করা হয়েছিল এবং তাঁর চিতাভস্ম থেকেই জন্ম নেয় এই পারিজাত বৃক্ষ। অন্য এক কাহিনি-মতে, কৃষ্ণ তাঁর পত্নী সত্যভামা, মতান্তরে রুক্মিনীর জন্য এই বৃক্ষ স্বর্গ থেকে নিয়ে আসেন। এই সব কাহিনির সত্যতা নিরূপণ দুরুহ। তবে এটুকু বলাই যায়, গাছটি সত্যিই প্রাচীন।

স্থানীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই বৃক্ষের কাছে এলে দুঃখ ও ক্লান্তির উপশম ঘটে। গঙ্গা দশেরা তিথিতে এই গাছে ফুল ফোটে। গাছটিতে কোনও ফল ধরে না। এই গাছ থেকে অন্য গাছও জন্মায় না। এর পাতাগুলির চেহারাও অন্য রকম। আজও একইভাবে এই গাছকে ঘিরে রয়েছে মানুষের বিশ্বাস। নববিবাহিতরা এই বৃক্ষকে প্রদক্ষিণ করতে আসেন। প্রতি মঙ্গলবার পারিজাতকে ঘিরে একটি মেলা বসে। গাছটিকে পুজো করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।

কেবল কিংবদন্তি নয়, পারিজাতকে ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করেন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরাও। আজও বিস্তর গবেষণা চলে এই গাছটিকে নিয়ে। গাছটিকে সম্মান জানিয়েছে ভারত সরকারও। প্রকাশিত হয়েছে পারিজাতের ছবিওয়ালা ডাকটিকিটও।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।