নয়াদিল্লি: বিজেপির একটা বড় অস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়া। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ অ্যাকটিভ। কিন্তু আচমকা সব ফলোয়ারদের চমকে দিলেন তিনি নিজে।

সোমবার ট্যুইটারে অবাক করে দিলেন ভক্তদের। লিখলেন, ‘এই রবিবার আমি সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছেড়ে দেব ভাবছি।’

শুধু ফেসবুক, ট্যুইটারই নয়। ইন্সটাগ্রাম, এমনকি ইউটিউবও ছেড়ে দেবেন তিনি। ট্যুইটারে একথাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নরেন্দ্র মোদী শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভই নন। এই মুহূর্তে তাঁর যা ফলোয়ার, তা পিছনে ফেলে দিয়েছে অনেক তাবড় নেতাদের।

ট্যুইটারে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ৫৩.৩ মিলিয়ন। ফেসবুকে ফলোয়ার ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ। ইন্সটাগ্রামে ফলোয়ার সাড়ে তিন কোটি। একসময় ওবামা সহ অন্যান্য তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিলেন তিনি।

সোমবার করা তাঁর ওই ট্যুইটটি ইতিমধ্যেই রিট্যুইট হয়েছে ৫০০০ বার। ১৫০০০ লাইক পড়েছে ওই ট্যুইটে।

আর ইন্সটাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ট্রাম্প ও ওবামার থেকেও বেশি। ইন্সটাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সাড়ে তিন কোটি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফলোয়ার ১৪.৯ কোটি। বারাক ওবামার ফলোয়ার সংখ্যা ২৪.৮ কোটি।

তবে আচমকা কেন এমন সিদ্ধান্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার জন্য তাঁর এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন একাংশ। কারণ সম্প্রতি দিল্লি সংঘর্ষের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক পোস্ট হয়ে থাকে, অনেক সময় ভুয়ো পোস্টও ভাইরাল হয়ে যায়। এসব বিতর্ক পিছু ছাড়াতেই কি এমন কথা ভাবলেন তিনি?

এই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি তো ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রবক্তা। উনিই কেন সরে যাচ্ছেন।’ অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, এই ট্যুইটে কেমন সাড়া মেলে, সেটার বাজার মাপতেই এমনটা করতে পারেন মোদী। এছাড়া কংগ্রেস সাংসদের ধারনা সাম্প্রতিক দিল্লির ঘটনা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেও এরকম চাল চালতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘এটা বিলাপ কিনা, মনোবিদরাই বলতে পারবেন।’