স্টাফ রিপোর্টআর, কলকাতা: এপ্রিলেই ফের রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩ এপ্রিল ব্রিগেডে বিজেপির জনসভা। সেখানেই মূল বক্তা হিসেবে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন: ঢোকা বারণ সৌমিত্রের, প্রার্থী ছাড়াই প্রচারে বিজেপি নেতা-কর্মীরা

লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আসবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে খবর, এপ্রিলে রাজ্যে মোট চারটি জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর৷

১৯শের ভোটে গেরুয়া বাহিনীর পাখির চোখ বাংলা৷ টার্গেড বেঁধে দিয়েছেন দলের সভাপতি অমিত শাহ৷ রাজ্য নেতৃত্বকে ২২টি  আসন জেতার জন্য ঝাঁপাতে বলেছেন তিনি৷ তার আগে রাজ্যবাসীর সামনে বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার হয়ে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীদের মারতে যাওয়া অর্জুন আগেও এনডিএ প্রার্থী ছিলেন

এর আগে বিজেপির প্রস্তাবিত রথযাত্রা শেষেও কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে মোদীর সভা হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু রাজ্য সরকার পদ্ম শিবিরের রথযাত্রাকে অনুমতি দেয়নি৷ ফলে পরিকল্পনা হোঁচট খায় কেন্দ্রের শাসক দলটির৷ পরে বিজেপির রাজ্য নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃকে প্রস্তাব দেন ব্রিগেডে সভার জন্য৷

কিন্তু, সেই সময় রাজ্য নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে পারেনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ ব্রিগেড ভরবে কিনা সে নিয়েই সন্দিহান ছিলেন মোদী, শাহরা৷ ফলে রাজ্য দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়দের প্রস্তাব খারিজ করে দেন গেরুয়া শিবিরের দিল্লির নেতারা৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন, ‘‘মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে এনে ব্রিগেড ভরানো মুশকিল হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করেছেন।’’ সিদ্ধান্ত হয় ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলে ব্রিগেডে সভা করার কথা বিবেচনা করা হবে৷

আরও পড়ুন: উন্নয়ন হয়ে থাকলে ভোট চুরি কেন তৃণমূলের, প্রশ্ন অর্জুনের

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই সময় রাজ্য নেতৃত্বকে জানায়, দিল্লি জয়ে বাংলা সহ পূর্বভারত-ই এবার তাদের নজরে রয়েছে৷ ফলে সংগঠনের দিকে ভালো করে জোর দিতে হবে৷ এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে রাজ্যের নিরাপত্তার দায়ভার কমিশনের কোর্টে চলে যাবে৷ ফলে সেই সময় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা হওয়ার আশঙ্কা কম৷ তাই এপ্রিলেই বাংলায় এসে ব্রিগেডে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি৷

ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি৷ প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে৷ যা মেটাতে তৎপর মুরলীধর সেন লেনের নেতারা৷ অন্যদিকে, প্রথম পর্বেই উত্তরবঙ্গের দু’টি আসন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোট রয়েছে৷ ফলে তার আগেই রাজ্যে এসে ভোটের প্রচার করবেন প্রদানমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: তৃতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে এবার বেশ কয়েকটি আসন জিততে পারে গেরুয়া বাহিনী৷ এমনকী সেই সংখ্যা ছুঁতে পারে দু’সংখ্যাতেও৷ ফলে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভা ভরিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে খুশি করাটা খুব শক্ত কাজ হবে না দিলীপ, মুকুলদে৷ কিন্তু সমীক্ষার ফল বাস্তবায়ণ যে কঠান তাজ৷ সেখানে শপল হবেন তো তাঁরা? প্রশ্ন পদ্ম শিবিরের অন্দরেই৷