কলকাতা:  নাগরিক আইনের প্রতিবাদে উত্তাল বাংলা। শুক্রবারের পর শনিবার সকাল থেকেও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর, আগুন। এরই মধ্যে আগামিকাল রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গেও কিছুক্ষ কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে।

নাগরিক আইনের প্রতিবাদে অশান্তি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। জেলায় জেলায় পথ অবরোধ, ভাঙচুর, আগুন। আন্দোলনকারীদের সংযত হতে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন মমতা। বিক্ষোভে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতেই আগামিকাল রবিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, রবিবার কিছু সময়ের জন্য রাজ্যে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্ডাল বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে ঝাড়খণ্ডের দুমকায় যাবেন নরেন্দ্র মোদী। ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন চলছে। ঝাড়খণ্ডে ৫ দফার বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যেই শেষ দুই দফার ভোটগ্রহণ। এখনও বাকি তিন দফার ভোট গ্রহণ। আগামি ১২ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ডে তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে নির্বাচনী প্রচারে রবিবার দুমকা সফর প্রধানমন্ত্রীর। রাজ্যে নেমে অল্প সময়ের জন্য হলেও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী। এনআরসি ও নারিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে পারেন দলের নেতাদের থেকে।

নাগরিকত্ব আইনে সিলমোহর পড়ার পর থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুনে তপ্ত হতে থাকে বাংলা। এরাজ্যে মূলত শুক্রবার থেকেই শুরু হয় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, আন্দোলন। তবে আন্দোলনের নামে সরাসরি অশান্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীদের একটা বড় অংশ। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে অবরোধ। শনিবার সকাল থেকে নতুন করে ফের ছড়ায় অশান্তি। কোনা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরপর একাধিক বাসে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এক কথায় ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে গোটা বাংলা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। কোথাও রেল লাইনে টায়ার জ্বালিয়ে ট্রেন অবরোধ করা হয়েছে। কোথা এবার ট্রেন লক্ষ্য় করে ছোড়া হয়েছে পাথর। গত ১৪ ঘণ্টায় ৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের সংযত হতে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনের নামে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শান্তির বার্তা দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। রাজ্যে বেড়ে চলা হিংসার ঘটনায় বিজেপির দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ফিরহাদ।

নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে প্রবল বিক্ষোভ চলছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। অসম, ত্রিপুরা, মণিপুরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসম, ত্রিপুরায় নামানো হয়েছে সেনা।