স্টাফ রিপোর্টার, ঝাড়গ্রাম : ৩৪ বছর বাম শাসনের অধীনে ছিল বাংলা। গদি হারালেও বাংলার জনমানসে বাম অস্তিত্ব যে একেবারে মুছে যায়নি সেটা ভালোই বোঝেন নরেন্দ্র মোদী। তাই ঝাড়গ্রামের নির্বাচনি জনসভা থেকে মমতার পাশাপাশি বামেদেরও নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির রামায়ণ নিয়ে বক্তব্যের জের টেনে মোদী বলেন, বামপন্থীদের ব্যপারটা না হয় বুঝতে পারি বিদেশের দল, বিদেশের আদর্শ৷ নিজের নামে সীতা ও রাম থাকা সত্ত্বেও রাম, রামায়ন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে পারে ওরা। কিন্তু দিদি আপনি? আপনি তো এই বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন মা মাটি মানুষের সাহায্য নিয়ে। আর আজ আপনিই মানুষের কথা ভাবছেন না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি নির্বাচনি জনসভা থেকে সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, হিন্দুরা হিংস্র, রামায়ন মহাভারত হিংসায় ভরা। এগুলিই প্রমাণ করে হিন্দুরা কত হিংস্র ছিল। এরপরই পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দেন কিছু লোক। এতেই চটে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাগত স্বরেই জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আয় আয় পালাচ্ছিস কেন? আমাকে গালাগালি করছে, কী সাহস দেখো। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দেওয়ার জন্য তিন জনকে গ্রেফতার করে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ৷

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এ হেন আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের তৃণমূল নেত্রীর আচরণ সমালোচনা করেন প্রচুর মানুষ৷ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে তাই “রাম” নামের এক তিরে বাম ও তৃণমূল দুই পাখি মারলেন মোদী। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা