স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: রাসমেলা মাঠে বাঁধা রয়েছে মঞ্চ৷ যা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক৷ সোমবার ওই মঞ্চেই নির্বাচনী প্রচার সভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ ঠিক তার আগের দিন তৃণমূলের ওই মঞ্চকেই ‘‘দিদির পরাজয়ের প্রতীক বলে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷’’

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসে ‘মা, মাটি মানুষে’র মাহাত্ম্য ভুলেছেন দিদি: প্রধানমন্ত্রী

কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে পর পর দু’দিন সভা মোদী মমতা’র৷ প্রধানমন্ত্রীর সভার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মোদীর অভিযোগদের জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ৩০ মিটারের ব্যবধানে মঞ্চ রয়েছে অর্ধ বাঁধা অবস্থায়৷। যা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তরজা শুরু হয়৷ পরে অবশ্য বিবাদের অবসান হয়৷ ঠিক হয় মোদীর সভাস্থল থেকে মমতার সভা মঞ্চ বাদ দিয়ে বাকি কাঠামো খুলে নিতে হবে। শুধু রয়ে যাবে পরদিন সভার জন্য প্রস্তুত হওয়া মমতার মঞ্চটি।

তৃণমূলের এই আচরণ শিশুসূলভ বলে দাবি করেন মোদী৷ বলেন, ‘‘নাটক করে বিজেপির সভার মাঠ ছোট করতে চেয়েছিলেন দিদি৷ কিন্তু এইভাবে মানুষের উন্মাদনা কমানো যাবে না৷ সভাস্থলে এত মানুষের ভিড়ই বলে দিচ্ছে বাংলায় বিজেপির সমর্থন বাড়ছে৷’’ তৃণমূলের বাঁশ বাঁধা প্রচার মঞ্চ দেখিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘‘ওই যে দিদির পরাজয়ের প্রতীক দাঁড়িয়ে৷’’

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার বাম মডেলে রাজ্যে অরাজকতা চালাচ্ছেন দিদি: মোদী

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এইসব ঘটনাই প্রমাণ করছে দিদি ভীত৷ তাই কথায় কথায় রেগে যাচ্ছেন দিদি৷ কিন্তু মানুষ পদ্মফুলকে সমর্থন করলে কারোর কিছু করার নেই৷ মোদীর দাবি, ‘‘দিদি ভীত৷ বিজেপির জনসমর্থনে উনি আয়নায় নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছেন৷ তাই শিশুসূলভ আচরণ করে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করছেন৷’’

কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে রবিবার সভা নরেন্দ্র মোদীর। আর তার পরদিনই মমতার সভা হবে ওই একই মাঠে। তার জন্য ইতিমধ্যেই মঞ্চ প্রস্তুত। প্রস্তুত ব্যারিকেডও। তাতেই বিপত্তি বাধে মোদীর সভা নিয়ে। মোদীর সভার দায়িত্বে থাকে এসপিজি পড়ে যায় বিপাকে। বঙ্গ রাজনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা৷

আরও পড়ুন: দেশদ্রোহীদের সমর্থন করছেন দিদি: মোদী

শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর সমাধান সূত্র মেলে। ঠিক হয়, মমতার মঞ্চ বাঁচিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সভা হবে। খুলে ফেলতে হবে মঞ্চের বর্ধিত অংশ। বিজেপির দাবি করে, এই পদক্ষেপ মোদীর সভা বানচালের ষড়যন্ত্র। তাই আগেই প্রচার মঞ্চ তৈরি করে সমস্যা জটিল করে তুলেছে রাজ্যের শাসক দল৷ পালটা সংগঠনের দোহাই দেন তৃণমূলও৷ এই বিতর্ক টেনেই এদিন জোড়াফুল শিবিরের বিরুদ্ধে নিন্দায় মুখর হন পদ্ম বাহিনীর প্রধান মুখ৷