মুম্বই ও ধরমশালা: ডিমানিটাইজেশনের ৪৬ দিন পার৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা ধরলে হাতে মাত্র আর চার দিন৷ তারপরেই হয়তো যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! কিন্তু প্রথম থেকেই কেন্দ্রকে সেই দিনটুকুও দিতে রাজি নয় বিরোধীরা৷ কখনো জোট বেঁধে৷ কখনো আবার আলাদাভাবে৷কেন্দ্রকে প্রায় বিগত একমাসেরও বেশি সময় ধরে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে কংগ্রেস সহ তৃণমূলের মতো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি৷ ছেড়ে কথা বলেনি শাসকদলও৷ কেন্দ্রের যাবতীয় অভিযোগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর নির্দেশ জারি করে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার৷ বড়দিন, অর্থাৎ ২৫ শে ডিসেম্বরের আগের দিনও সেই রেশ বজায় রাখল দুই শিবির৷ একদিকে ধর্মশালা থেকে নরেন্দ্র মোদী সহ তাঁর দলের নেতা-নেত্রীদের বাপ-বাপান্ত করলেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিরোধীদের ফের এক হাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

শনিবার হিমাচল প্রদেশের ধরমশালায় এক রাজনৈতিক সভায় হাজির হন কংগ্রসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ৷শীতের আমেজের উষ্ণতা মেখে রাহুল তোপ দাগেন নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে৷ দাবি করেন দেশের ১ শতাংশ মানুষের কাছে কালো টাকা রয়েছে৷ আর তাঁর ফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ৷ যাদের হাতে কালো টাকা রয়েছে তাদের নিয়ে মাতামাতি করছে করছে কেন্দ্র৷ তাদের ধরতে পারছে না কেন্দ্রের হাতে থাকা তদন্তকারী সংস্থাগুলি৷ নরেন্দ্র মোদী দেশকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন বলেও এদিনের সভায় দাবি করেন রাহুল গান্ধী৷

এর আগে একাধিক বার বিভিন্ন খতিয়ান তুলে ধরে সরব হন রাহুল গান্ধী৷ এদিনও তার ব্যতিক্রম কিছু করলেন না৷ফের একবার দাবি করলেন, ‘‘কালো টাকার মাত্র ৬ শতাংশ আছে দেশে৷ বাকি টাকা রয়েছে বিদেশি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে৷অনেকে সোনায় তা বদলে ফেলেছে৷ কেউ কেউ জমিও কিনে ফেলেছে৷’’ সেই টাকা ফেরাতে কেন্দ্র কেন তৎপর নয়, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ পাশাপাশি এদিন কংগ্রেসের পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই এই যুবনেতা বিজেপির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হন৷ তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রদেশ সহ ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে আদিবাসীদের জমি জোর করে কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি ৷

নমোকে ঘায়েল করতে ডায়েরির ছেঁড়া পাতা যথেষ্ট নয়, রাহুলজি!

একদিকে ধরমশালা থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যখন একের পর এক তোপ দাগছেন রুহুল, ঠিক তার উল্টোদিকে প্রধান মন্ত্রীর নিশানায় বিরোধীরা৷ সেখান থেকে প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার দূরে অর্থাৎ মুম্বই থেকে ফের একবার কালো টাকার বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী৷ দাবি করলেন, ৫০ দিন পর যখন ডিমানিটাইজেশন শেষ হবে, সেদিন থেকে এর সুবিধা ভোগ করবেন দেশের ১২৫ কোটি মানুষ৷ এদিন প্রধানমনত্রী বলেন, ‘‘আমাদের লড়াই কালো টাকার বিরুদ্ধে৷ গত আট নভেম্বর এই লড়াইয়ের জন্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল৷’’ কালো টাকার বিরুদ্ধে সকলকে আরও একবার সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদী৷ একধাপ এগিয়ে মোদী বলেন, ‘‘দেশের অসৎ লোকেদের জন্য খারাপ দিন আসছে৷ তাদের এর ফল ভোগ করতে হবে৷ কিন্তু যারা সততার সঙ্গে দিন যাপন করেন তারা বিমুদ্রাকরণের সুফল তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবেন৷’’

শনিবার মুম্বইতে দু’টি অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রথমে মুম্বইয়ের মেট্রো রেলের শিলান্যাস করেন৷ পরে ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘শিবাজী মহারাজ সম্পর্কে কম-বেশি আমরা সকলেই জানি৷ কিন্তু তাঁর সম্পর্কে অনেক তথ্যই আমাদের অজানা৷ তাঁর মতো দক্ষ প্রশাসকের জল ও আর্থিক প্রকল্পগুলি আমাদের আজও অনুপ্রেরণা দেয়৷’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।