নয়াদিল্লি: চায়ে পে চর্চার পর এবার মোদীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’। দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে পরীক্ষার্থীদের মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরীক্ষা ও সামগ্রিক পঠনপাঠন নিয়ে পড়ুয়াদের একগুচ্ছ টিপস দিলেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে জীবনে এগিয়ে যেতে দিলেন বেশ কিছু পরামর্শও। পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর দিয়েই জীবন চলে না, পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে এমনই জানালেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদীর এই বিশেষ উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও।

পরীক্ষার টেনশন সামলানো নিয়ে পড়ুয়াদের একগুচ্ছ টিপস দিলেন প্রধানমন্ত্রী। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পরামর্শ দিলেন নরেন্দ্র মোদী। উত্তর দিলেন বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়াদের একাধিক প্রশ্নের। মোদী ‘স্যার’-এর এই বিশেষ ক্লাসে হাজির ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দু’হাজার পড়ুয়া।

এদিন সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় পড়ুয়াদের নানা বিষয়ে আশ্বস্ত করেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁকে লড়াই করতে হয় বলে পড়ুয়াদের জনান নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর অনেক কিছু শেখারও সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের যেখানেই যান সেখানেই যুব সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলাদা করে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেন বলে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এদিন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নবম শ্রেণিতে উঠলেই পড়ুয়াদের চিন্তা-ভাবনা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বিফলতার মধ্যেও সাফল্যের খোঁজ পাওযা যায়। কেউ বিফল হলেই বুঝবেন যে তিনি সাফল্যের দিকেই আসলে আরও একধাপ এগোলেন। কিন্তু বিফল হলে থেকে থাকলে চলবে না। এগিয়ে যেতেই হবে। পড়ুয়াদের বার্তা নরেন্দ্র মোদীর। মানুষের শরীরে আবেগ থাকে। কিন্তু সেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই মানুষের মনের পরিবর্তন সম্ভব বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরীক্ষায় নম্বর পাওয়া প্রসঙ্গেও পড়ুয়াদের সঙ্গে এদিন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পড়ুয়াদের তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার অঙ্কে এখন আর জীবন চলে না। পরীক্ষা পাওয়া নম্বর দিয়ে সব কিছু নির্ধারিত হয় না। নম্বর ভালো না হলে জীবন শেষ হয়ে গেল এমন ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল৷’

পড়ুয়াদের নানা বিষয়ে টিপস দেওয়ার পাশাপাশি এদিন অভিভাবকদেরও সচেতন করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ বাবা-মা পড়শোনার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের অন্য বিভাগেও সমান পারদর্শী করতে চান। কিন্তু অভিভাবকদের উপর্যুপরি এই চেষ্টা আদতে তাঁদের সন্তানদের ক্ষতি করে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর। কোনও বাচ্চার কীসে আগ্রহ রয়েছে, সেটা অভিভাবকদের তার সঙ্গে কথা বলে বুঝে নেওয়াটা জরুরি বলে মত প্রধানমন্ত্রীর।

পরীক্ষা বা অন্য বিষয় নিয়ে টিপস দেওয়ার পাশাপাশি এদিন স্মার্টফএানের ব্যবহার নিয়েও পড়ুয়াদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘স্মার্ট ফোন অনেকটা সময় চুরি করে নেয়। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে৷ কিন্তু প্রযুক্তির দাসত্ব আমরা করব না।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ শীর্ষক এই উদ্যোগে যারপরনাই খুশি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত পড়ুয়ারা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অভিভাবকরাও।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ