কলকাতা: নিজের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাওবাদী তকমা দিয়েছেন। তা নতুন কিছু নয়৷ বেলপাহাড়ির সভায় সারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কৃষিজীবী পরিবারের সদস্য শিলাদিত্য চৌধুরীকে ‘মাওবাদী’বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার বেসরকারি এক টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অপ্রিয় প্রশ্ন করা এক কলেজছাত্রী তানিয়া ভরদ্বাজকেও তিনি মাওবাদি বলেছিলেন৷ তবে নতুন বিষয় এই যে, কয়েক বছর আগের তানিয়া ভরদ্বাজের বিষয়টি বসিরহাটের নির্বাচনী মঞ্চ থেকে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ যদিও তানিয়া ভরদ্বাজের নাম নেননি মোদী৷

প্রধানমন্ত্রী মোদী বুধবার বলেন, চিভির অনুষ্ঠান চলাকালীন কলেজের একটি ছাত্রীকে দিদি ভয় দেখিয়েছিল৷ দিদি কী চায়? তাকে সবাই ভয় পেয়ে চলবে? দিদির এত রাগ কিসের? কাকে ভয় পান দিদি? বাংলার মানুষ দিদির কুশাসন থেকে মুক্তি পেতে চায়৷ বাংলার মানুষ বুঝে দিয়েছে দিদিকে ক্ষমতা থেকে তাড়াতে হবে৷ সেই দিন এসে গিয়েছে৷ যারাই দিদির বিরুদ্ধে কথা বলছেন, দিদি তাদের গ্রেফতার করছেন৷ ভগবানের নাম নিলেও দিদি মানুষকে গ্রেফতার করেছেন৷ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্রকেও (প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রকুমার বসুর কথা বলেছেন) দিদির গুন্ডারা ছাড়েনি৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এক ভচর পূর্তির আগে একটি খবরের চ্যানেল তার সাক্ষাৎকার নিতে কলকাতায় আসে৷ সেখানে দুজন ছাত্রী রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা এবং মন্ত্রীদের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে৷ মুখ্যমন্ত্রী ক্যামেরার সামনেই ব্যাপক বিক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ অভিযোগ করেন যে সিপিএম ও মাওবাদীদের হয়ে ওই ছাত্রীরা প্রশ্ন করছেন৷ এরপর, ওই অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপরেই পুলিশ ওই ছাত্রছাত্রী সহ অনুষ্ঠানে যাঁরা গিয়েছিলেন তাদের সম্বন্ধে খোঁজখবর নিতে শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে৷ বুধবার বসিরহাটের মঞ্চ থেকে মোদী ওই দুই ছাত্রীর কতা উল্লেখ করেছেন৷

মোদী বলেছেন, দিদি আপনার এত অহংকার কেন? কীসের বলে অপনি এত আহংকার করছেন৷ যে গণতন্ত্র আপনাকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে৷ সেই গণতন্ত্রই আপনাকে নামিয়ে দেবে৷ বাংলার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিন৷ বুথে বুথে পদ্মফুলে ছাপ দিন৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এতদিন পর এই ঘটনা উল্লেখ করে মোদী বাংলায় বাকস্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷ তাই সঙ্গে এও বলেছেন, যেখানে ভগবানের নাম বললে গ্রেফতার করা হয় সেখানে আর যাই থাকুক গণতন্ত্র নেই৷ উল্লেখযোগ্য যে সাংবাদিক মমতার সাক্ষাৎকার নিচে এসেছিলেন, সেই সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ বিবিসি-কে পরে দাবি করেছিলেন, আমি যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে অনুষ্ঠানের প্রশ্নকর্তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার যে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে আর এগোনো হবে না৷