স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গকে বক্তব্য পেশের সুযোগ না-দেওয়া নিয়ে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। করোনা ও আনলকের পরবর্তী পর্ব নিয়ে বৈঠক। অথচ তাতে বাংলারই বলার সুযোগ নেই। কেন্দ্রের এই ‘দ্বিচারিতা’ কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শাসক দল।

রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ, “কেন্দ্রের কাছে আমাদের ৫৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা। আমফানে এক লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির পরেও তারা দিচ্ছে মাত্র এক হাজার কোটি। কেন্দ্রীয় সরকার ভয় পাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যকে বলার সুযোগ দিলে তা দেশের মানুষ জানতে পারবেন।”

ফিরহাদ বলেন, “এভাবে ফের গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করল কেন্দ্র। সুপরামর্শ এবং গঠনমূলক সমালোচনা নিতে অপারগ বিজেপি সরকার।” তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, “এ রাজ্যের মানুষের প্রতি কেন্দ্র বিমুখ। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে দিতে যদি ভয় থাকে, তাঁকে ডাকা হল কেন?”

দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় টুইটারে লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলার সুযোগ না দিয়ে বাংলার মানুষকে অপমান করা হল।” করোনা ও আমফান নিয়ে জোড়া বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত বাংলার নায্য দাবিদাওয়া নিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠকে সরব হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মমতা।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠকে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বক্তা তালিকায় থাকলেও বাদ বাংলা। রাজ্যকে এভাবে ব্রাত্য রাখায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন মমতা। ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। বিষয়টিকে বাংলার প্রতি বঞ্চনা বলেই মনে করছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ভিডিও বৈঠকে এক শীর্ষ আধিকারিককে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে এতে আমল দিতে চায়নি রাজ্য বিজেপি।

দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এ-পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছ’বার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে কত বার মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিয়েছেন? ভিডিয়ো কনফারেন্সে উনি থাকেন না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ওঁর কথা শুনতে চান না। আর প্রধানমন্ত্রী কেন শুনবেন? উনি সংবাদে থাকতে চান।”

প্রসঙ্গত,মঙ্গল ও বুধবার পরপর দু’দফায় দেশের মোট ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসকদের সঙ্গে আনলক পর্ব নিয়ে বৈঠক শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ, বুধবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে রয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত, দিল্লির মতো সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্ত ১৫টি রাজ্য। তার মধ্যে সমস্যা নিয়ে কথা বলার সুযোগও পাবেন মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, বিহার, তামিলনাড়ু এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। পাবেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।