নয়দিল্লি:  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বসছে নীতি আয়োগের বৈঠক। আজ শনিবার থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে বসতে চলেছে এই বৈঠক। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকছেন না তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও। দ্বিতীয় মোদী সরকারের আমলে এটাই প্রথম নীতি আয়োগের বৈঠক। ফলে এই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মধ্যে কার্যত পড়ে বাংলাকে বাদ রেখেই হয়ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী।

তি আয়োগের শীর্ষ পর্ষদে রয়েছেন- সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের লেফট্যানেন্ট গভর্নর, বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং উচ্চ পদস্থ আমলারা৷ আর সে কারণে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, উপরাজ্যপালদের উপস্থিত থাকার জন্যে বলা হয়েছিল। সেই মতো ইতিমধ্যে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছে একাধিক রাজ্য। এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে মোদীর ডাকা নীতি আয়োগের এই বৈঠকে যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এই মর্মে নরেন্দ্র মোদীকে চিঠিও দিয়েছেন মমতা।

মোদীকে পাঠানো চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ‘‘নীতি আয়োগের কোনও আর্থিক ক্ষমতা নেই। রাজ্যের পরিকল্পনা রূপায়ণে কোনও ক্ষমতা নেই নীতি আয়োগের। তাই এই বৈঠকে যোগ দিয়ে কোনও লাভ নেই’’। তবে, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর নায়ডু তাঁর এই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসাবে জানিয়েছেন, রাজ্যের সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন রয়েছে। আর সেই কারণে ব্যস্ত থাকব। অন্যদিকে, অন্ধ্র প্রদেশের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি শুক্রবারই দিল্লি উড়ে গিয়েছেন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর রাজ্যের স্পেশ্যাল স্ট্যাটাসের দাবি জানান। পাশাপাশি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও বিহারের জন্যে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাসের দাবি জানিয়েছেন। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবেন। এদিনের এই নীতি আয়োগের বৈঠকেই এই বিষয়টি উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৮ফেব্রুয়ারি নীতি আয়োগের প্রথম বৈঠক হয়েছিল৷ তখন পর্ষদ ঝাড়খন্ড এবং ছত্তিশগড়কে অতি বাম উগ্রপন্থীদের থেকে কী ভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে তা নিয়েও আলোচনা করেন৷ তারপরে ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই দ্বিতীয় বৈঠকে এই সবের পর্যালোচনা হয়৷

এরপরে পর্ষদের তৃতীয় বৈঠক হয় ২০১৭ সালের ২৩এপ্রিল যেখানে মোদী দাবি তোলেন লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট একসঙ্গে করানোর৷ পাশাপাশি আর্থিক বছরটাও ক্যালেন্ডারের বছরের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে উদ্যোগী হন ৷ এরপরে চতুর্থ বৈঠক হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৭ জুন যেখানে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পগুলিকে সরকারের যথাযথ রূপায়নের দিকে জোর দেওয়া হয়৷ নতুন মোদী সরকারের অধীনে এটাই হতে চলেছে পরিচালন পর্ষদের প্রথম বৈঠক।