নয়াদিল্লিঃ  মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত এবং চিন। আগামী মাস অর্থাৎ জুলাইতে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশনের অনুষ্ঠান রয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানের মাঝেই ভারত এবং চিনের রাষ্ট্রপ্রধানরা বৈঠকে বসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্ত সমস্যা সহ একাধিক বিষয়ে চিনের সঙ্গে সমস্যা রয়েছে ভারতের। এই অবস্থায় ভারত এবং চিনের মধ্যে বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মত ওয়াকিবহালমহলের।

সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানে উড়ে যাবেন চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিংপিং। আগামী মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানের দিকে উড়ে যাবেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ফের দিল্লির মসনদে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় মোদী সরকারের মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন। দ্বিতীয় মোদী সরকারের আমলে চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটাই প্রথম সাক্ষাৎ হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর।

আগামী ১২ জুন থেকে ১৬ জুনের মধ্যে জিনপিং কিরঘিজস্তান ও তাজিকিস্তান সফরে আসবেন। এমনটাই জানিয়েছেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাং। কিরঘিজস্তানের বিশকেকে ১৩ থেকে ১৪ জুন সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৭ সাল থেকে চিনের নেতৃত্বে ভারত, পাকিস্তান-সহ আটটি দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে চিনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সম্মেলন চলাকালীন ভারত এবং চিনের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজেদের মধ্যে সাক্ষাৎ করবেন।

গত ২০১৭ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভারত এবং চিনের সম্পর্ক। ডোকালাম ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সীমান্তের দুপাড়ে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ছিল ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনী। এরপরই ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের ওই শীর্ষ সম্মেলনে মুখোমুখি হন মোদী ও জিনপিং। এরপরেই ভারত এবং চিনের সম্পর্ক অন্য মাত্রা নেয়। গত বছরের ডিসেম্বরে মোদীর সঙ্গে জিনপিং-এর সাক্ষাৎ হয় আর্জেন্টিনার জি-২০ শীর্ষ সম্মেল‌নে। এই বৈঠকে সবরকম পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেয় চিন। সম্প্রতি মাসুদ আজহার ইস্যুতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। এই পরিস্থিতিতে মোদী-জিংপিং বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।