স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিবিআই-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বৈরথ আপাতত কিছুটা স্থিমিত৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হবে৷ অন্যদিকে জলপাইগুড়িতে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা রয়েছে৷

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, সিবিআই-মমতা দ্বৈরথের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হতে পারে জলপাইগুড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সভার পরেই৷ সিবিআই-ইস্যু নিয়ে মোদী সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতাকে বেনজির আক্রমণ করবেন – তা যেমন সহজেই অনুমেয়, আবার তেমনই কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় রাজ্য বিজেপির অভিযুক্ত নেতাদের গ্রেফতার করতে পারে – এই রকম সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে৷

এলপিজি ডিলারশিপ দেওয়াকে কেন্দ্র ওঠা দূর্নীতির অভিযোগ বেশ কয়েকজন রাজ্য বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে৷ জল্পনা ছড়িয়েছে বুধবারই নাকি রাজ্য বিজেপির উচ্চপদস্থ এক নেতাকে লালবাজারে তলব করেছিল পুলিশ৷ তবে এই ঘটনা এই প্রথম ঘটেনি৷

রাজ্য বিজেপির অন্য এক উচ্চ পদস্থ নেতাকেও এর আগে এলপিজি কেলেঙ্কারীর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লালবাজারে ডেকেছিল পুলিশ৷ তবে সেই যাত্রায় ওই নেতা যাননি৷ কেন্দ্রকে জবাব দিকে মমতা ধর্মতলার ধর্ণামঞ্চ থেকেই বলেছিলেন, ‘‘আমার হাতেও সিআইডি আছে, এসটিএফ আছে৷’’ সেদিক থেকে দেখতে গেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে ছেড়ে কথা বলবেন না, সে বার্তা কেন্দ্রের কাছে পৌঁছে গিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই চিটফান্ড প্রসঙ্গে মোদীও বলে দিয়েছেন, ‘‘কাউকেই ছাড়া হবে না৷’’

তবে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ট মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে – বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ছুঁতে পারবে না কলকাতা পুলিশ৷ কারণ কারও নামে কোনও অভিযোগ নেই৷ বিজেপির কিছু জেলাস্তরের নেতার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ রয়েছে৷ আদালতে কঠিন লড়াই হবে৷

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপি নেতারা চাইছেন জলপাইগুড়ির মঞ্চ থেকে মমতাকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করুক মোদী৷ কারণ লোকসভা নির্বাচনের আগে এই দ্বৈরথ বিজেপিকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সাহায্য করবে৷ এক নেতার কথায়, ‘‘সিপিএম হোক বা কংগ্রেস, বা তৃণমূলের একাংশ, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পছন্দ করেন না, তাঁরা এই দ্বৈরথকে পছন্দ করবেন৷ তাঁরা চাইছেন উত্তরবঙ্গ থেকে দিদিকে খোলা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলুক মোদী৷’’