স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে কে কত গরিব দরদী। মোদী-মমতার নয়া রেশন ঘোষণাকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

প্রদেশ সভাপতি বলেন, “গরিবের পকেটে মাসে ৭৫০০ টাকা ঢোকানোর দাবি জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, সেই দাবি নস্যাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু চাল খেয়ে মানুষ বাঁচে না , বাঁচার জন্য আরও কিছু দরকার, তার জন্য টাকা লাগে।”

রাজ্যের শাসক দলকেও একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের বড়, ছোট , মেজো নেতারা সরকারি টাকা লুঠ করছেন। রোজ সংবাদমাধ্যমে মানুষ দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের গ্রেফতার করছেন না কেন ? ভাষণে মানুষের পেট ভোরে না , মাথায় ছাদ হয় না। তাঁর জন্য সদিচ্ছা লাগে। বিজেপি – তৃণমূল ভোটের রাজনীতি করছে এর মধ্যে গরিব মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই এই ঘোষণা মানুষের বাঁচার রসদ যোগাবে না।”

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গোটা দেশে আরও পাঁচ মাস অর্থাৎ, নভেম্বর পর্যন্ত ৮০ কোটি মানুষকে ফ্রি রেশন দেওয়ার ঘোষণা করেন। এর আধ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা, রাজ্য পাঁচ মাস নয়, আরও এক বছর অর্থাৎ, ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ফ্রিতে রেশন দেবে।

কেন্দ্রের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “আমাদের চালটা ভাল। ওদের চাল এফসিআই থেকে আসে। ওদের কোয়ালিটি খারাপ, আমাদের কোয়ালিটি ভাল।” একই সঙ্গে মমতা বলেন, “আমরা ১০ কোটি লোককে দিচ্ছি। ওরা সবাইকে দিচ্ছে না। এটা ভুল। অর্ধেককে দেয়, অর্ধেককে দেয় না।” মমতার আরও দাবি, “বাংলা ৬০ শতাংশ পায়, ৪০ শতাংশ পায় না। আমি চাই দেশের সবাইকে দিক ওরা।”

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এখন থেকেই তার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেটা কেন্দ্রের টাকায়। বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, মমতা ফ্রিতে রেশন দেবেন কোথা থেকে? রেশনের চাল গমে প্রায় পুরো ভরতুকিই তো কেন্দ্র দেয়।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।