নয়াদিল্লি: বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদী৷ ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে এই দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেই৷ বিজয় মালিয়ার প্রত্যর্পণে সিলমোহর দিয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট৷ যদিও সেই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে আবেদন জানিয়েছেন ওই লিকার ব্যারন৷ আর, নীরব মোদী বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন লন্ডনে৷ তবে একদম হাত গুটিয়ে বসে নেই তারা৷ বিদেশের মাটিতে বসেই যোগাযোগ রাখছেন মালিয়া ও মোদী৷ গত ১০ মাসে তাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে৷

সূত্রের খবর, শুধু যোগাযোগই নয়৷ বিজয় মালিয়ার আইনজীবী লড়তেও পারেন নীরব মোদীর হয়ে৷ তাদের এই সাক্ষাতের খবর সামনে আসতেই ভোটের আগে দেশের মাটিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ ঋণখেলাপি হীরে ব্যবসায়ীকে ‘ছোটা মোদী’ বলে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস৷ জানতে চেয়েছে, কেন মোদী সরকার একজন পলাতক ও প্রতারক ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করতে পারল না? কাকে বাঁচাতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী?

আরও পড়ুন: ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে দেখাক নয়া পাকিস্তান’

তবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রাবীশ কুমার জানিয়েছেন, নীরব মোদীর প্রত্যর্পণের জন্য ব্রিটেনের কাছে নির্দিষ্ট পক্রিয়ায় আবেদন করা হয়েছে৷ লন্ডনের এক সংবাদ পত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে বিদেশের মাটিতে তিনি হীরের ব্যবসা শুরু করেছেন নীরব মোদী৷ নতুন অফিসও খুলেছেন তিনি৷

আরও পড়ুন: বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ISIS জঙ্গি শামীমার সন্তান মৃত

দেশ ছেড়ে বিদেশে গা ঢাকা দিলেও বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় কোনও ছেদ পড়েনি ব্যাংক জালিয়াতিতে অভিযুক্ত নীরব মোদীর৷ শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে ‘ফেরার’ নীরব মোদীকে লন্ডনের রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে দেখা যায়৷ তারপরেই পলাতক হীরে ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কিছু তথ্য সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে৷ লন্ডনে নীরব মোদী তিন কামরার একটি ফ্ল্যাটে থাকছেন৷ যেটির দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৭৩ কোটি টাকা৷ এছাড়া ভিডিও ফুটেজে নীরব মোদীকে যে জ্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে সেটির দাম ৮ লক্ষ টাকা৷

অন্যদিকে, আরও এক ঋণখেলাপি বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান মালিয়া। তখন থেকে তিনি ব্রিটেনেই রয়েছেন তিনি। মালিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ঋণখেলাপি এবং প্রতারণা মামলা চলছে ভারতের বিভিন্ন আদালতে। ইংল্যান্ডের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলছিল প্রত্যর্পণ মামলা। তাকে প্রত্যর্পণে রাজি হয় ব্রিটেনের পার্লামেন্ট৷ যদিও ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন মালিয়া৷ তার আগে ঋণের আসল টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব ভারত সরকারকে দিয়েছিলেন কিংফিশার এয়ারলাইন্সের মালিক৷ তবে তাতে রাজি হয়নি কেন্দ্র৷