মুম্বই: প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে শিবসেনা৷ বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর থেকেই মোদীস্তুতিতে ভাসছে সামনার সম্পাদকীয়৷ এবার নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন শিবসেনার ঘোষণা ভগবানের ইচ্ছাতেই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন মোদী৷ এটা নাকি ভগবানেরই পরিকল্পনা ছিল, যাতে দেশের শাসনভার মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির হাতেই যায়৷

দলের মুখপত্র সামনার সম্পাদকীয়তে এমনই উল্লেখ শিবসেনার৷ এরই পাশাপাশি, মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার জন্য তুলোধনা করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোকে ক্ষুদ্র রাজনীতির জন্য অবহেলা করছেন মমতা, জানিয়েছে শিবসেনা৷ তাঁদের মতে বাংলায় প্রচুর রাজনৈতিক খুন হয়েছে৷ সত্যিটা স্বীকার করতে চাইছে না মমতা সরকার৷

আরও পড়ুন : কংগ্রেস সভাপতি হোক কোনও দলিত নেতা, দাবি রাহুলের

বুধবারই ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ৩০শে মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন না তিনি৷ তার কারণ হিসেবে মমতা জানিয়ে ছিলেন পুরুলিয়াতে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা যাবেন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। এই ইস্যুকে বিজেপি রাজ্যে রাজনৈতিক খুনের শিকার বলে ব্যাখ্যা করেছে৷ আর বিজেপি দাবিকেই সমর্থন করছেন না মমতা৷ তাঁর মতে রাজ্যে কোথাও কোনও বিজেপি কর্মীকে রাজনৈতিক খুনের শিকার হতে হয়নি৷

মমতার এই মনোভাবকেই দুষেছে শিবসেনা৷ পাশাপাশি, টাইম ম্যাগাজিনের পাল্টি খেয়ে যাওয়া মনোভাবের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে৷ যে টাইম ম্যাগাজিনের কভার পেজে মোদীকে বিভেদের রাজনীতির মাস্টারমাইণ্ড বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, সেই ম্যাগাজিনেই মোদীকে ভারতীয় ঐক্যবদ্ধতার মুখ বলে বর্ণনা করা হয়েছে৷ টাইমের মত পত্রিকার এই দ্বিচারিতাকে কটাক্ষ করেছে শিবসেনা৷

আরও পড়ুন : অমরনাথ যাত্রা: এই প্রথম যাত্রীদের দেওয়া হবে বারকোড স্লিপ

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে ফল বেরোনোর পর এই প্রথম সেই সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানিয়েছে টাইম৷ তাঁদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে মোদীকে ভারতের ঐক্যের স্থপতি বা কারিগর বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ টাইম ম্যাগাজিন বলেছে, ভারতের আর কোনও প্রধানমন্ত্রী এভাবে এক সূত্রে ভারতকে বাঁধতে পারেননি৷ ২৮শে মে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে৷ আপাতত সমালোচনা ভুলে মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ টাইম ম্যাগাজিন৷ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোদীর উত্থান ও তাঁর ক্যারিশমা নিয়ে পর্যালোচনা করেছে ম্যাগাজিনটি৷

এর আগে, শুধু টাইমই নয়, গার্ডিয়ান পত্রিকাও মোদীর সমালোচনা শুরু করেছিল৷ ২০১৯ সালে মোদী জিতে ক্ষমতায় ফিরলে, দেশের ভবিষ্যত অন্ধকার বলে বর্ণনা করা হয়েছিল৷ এই প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন কপিল কমিরেড্ডি। যদিও লোকসভা নির্বাচনের ফল সব হিসেব নিকেশ উলটে দিয়েছে৷ সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় ফিরেছেন মোদী৷ ৩০শে মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় মোদী সরকার৷