প্রতীকী ছবি

চন্ডীগড়: যেদেশে ট্রেন সময়মতো চলে না সেদেশে আবার বুলেট ট্রেন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক বিজেপি নেত্রীর আর্জি বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন পড়ে দেখাবেন৷ আগে ঘড়ির কাঁটা মেনে যাতে ট্রেন চলে ও গন্তব্যে পৌঁছয় তার ব্যবস্থা করুন৷

এই বিজেপি নেত্রী যে সে স্তরের নেত্রী নন৷ পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন লক্ষ্মী কান্ত চাওলা৷ অযোধ্যা যাবেন বলে ২২ ডিসেম্বর অমৃতসর থেকে সরোজু-যমুনা ট্রেনের এসি থ্রি টায়ারে চাপেন তিনি৷ অমৃতসর থেকে অযোধ্যা যেতে যতক্ষণ সময় লাগার কথা তার থেকে দশ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগে৷ বিরক্ত লক্ষ্মী ট্রেনে বসেই তাঁর অভিজ্ঞতার কথা একটি ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করেন৷ উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর ও রেলমন্ত্রীর কান অবধি তাঁর বার্তা পৌঁছে দেওয়া৷

ওই ভিডিও বার্তায় লক্ষ্মী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বিনীত আবেদন দয়া করে সাধারণ মানুষের কষ্টের দিকে নজর দিন৷ গত ২৪ ঘণ্টায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে৷ অতিরিক্ত ১০ ঘণ্টা ট্রেনে সময় কাটানো যাত্রীদের জন্য কোনও খাবারের ব্যবস্থা ছিল না৷ ট্রেন বারবার তার যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছে৷ তার জেরে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ট্রেন চলেছে৷ অথচ যাত্রীদের জানানো হল না৷

ভিডিও বার্তাটি এখানেই শেষ হয়নি৷ রেলের পরিকাঠামোগত নানা ক্রুটির কথাও তুলে ধরেন৷ ক্ষোভের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান, ১২০ কিমি বা ২০০ কিমি বেগে চলা ট্রেনের কথা ভুলে যান৷ স্টেশনে কোনও ওয়েটিং রুম নেই৷ এই ঠাণ্ডায় মানুষ খোলা জায়গায় শুতে বাধ্য হয়েছে৷ রেলের উচ্চআধিকারিক ও মন্ত্রীদের একবার ট্রেনে সফর করার পরামর্শ দিয়েছেন৷ জানিয়েছেন, শতাব্দী ও রাজধানী এক্সপ্রেস তো উচ্চবিত্তদের জন্য৷ গরিব, শ্রমিকরা যেসব ট্রেনে যাতায়াত করে সেই সব ট্রেনে চাপুক রেলের কর্তারা ও রেলমন্ত্রী স্বয়ং৷ দেখুক কোন পরিস্থিতিতে মানুষ যাতায়াত করে৷ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর বার্তা, ‘‘মোদীজি মানুষ খুবই হতাশ৷ কেউ আচ্ছে দিন দেখেছে কিনা জানি না৷ তবে সাধারণ মানুষ আচ্ছে দিন দেখেনি এটুকু বলতে পারি৷’’