কলকাতা: বাস্তুভূমিতে তাঁদের ফিরিয়ে দিতে হবে৷ শুধুমাত্রই ঘরে ফেরা নয়, উপত্যকায় তাঁদের ইজ্জতও ফিরিয়ে দিতে হবে – একসময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোট চেয়েছিল বিজেপি৷ ২০১৪ সালে পার্টির ইস্তাহারে ছাপা হয়েছিল এই অমোঘ বার্তা৷ দেড় লাখ কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং তাদের পরিবার ওই ইস্তাহার পড়ে উদ্দেলিত হয়ে নরেন্দ্র মোদীর জয়ধ্বনী দিয়েছিলেন৷

কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যে স্বপ্নের সমাপ্তি৷ পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার ঘটানার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী যতই যুদ্ধের হুঙ্কার ছাড়ুক – কাশ্মীরি পণ্ডিতরা তাঁদের বাস্তুভূমির দিকে তাকিয়ে আশা ছেড়েছেন৷ তাঁদের মনে হচ্ছে, শুধু মোদীই নয় ভারতবর্ষ তাদের ভুলে গিয়েছে৷

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলি নিযে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তেমন ভাবে এগোতেই পারেনি৷ মন্ত্রকের আওতায় জম্মু-কাশ্মীর দফতরের কাছে এই বিষয়ে তেমন কো তথ্যের খোঁজ পায়নি সংবাদমাধ্যম৷ উপত্যকা থেকে কত পণ্ডিত পরিবারকে পালিয়ে আসতে হয়েছে, তেমন কেনও তথ্যও পাওয়া যায়নি৷ বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জম্মু ও কাশ্মীর দফতর জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের কাছে ওই তথ্য সন্ধান করার পরামর্শ দিয়েছে৷

কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকার কী করেছে? এই প্রশ্নটারা বারবার ঘুরে ফিরে আসছে৷ ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য তিনটে সরকারি প্রকল্প চলছে৷ প্রথমটি, মাসিক অর্থ সাহায্য এবং শুকনো খাদ্যদ্রব্য রেশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়৷ দ্বিতীয়টি, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী ‘রিলিফ প্যাকেজ’ এবং তৃতীয়টি ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ‘দেব প্যাকেজ ৷’

এই তিনটে প্যাকেজের মধ্যে মোদীর সময়ে মাত্র একটি প্যাকেজ চালু হয়েছে৷ ‘ইন্ডিয়া টুডে’র আরটিআই-এর জবাবে মোদী সরকার জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে পণ্ডিতদের জন্য ৬ হাজার বাড়ি বানানো টাকা রাজ্যের সরকারকে দেওয়া হয়েছে৷ ২০১৬ সালের মধ্যেই ১১৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷

নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরে পণ্ডিতরা বাড়ি ছাড়তে শুরু করে৷ ইসলামিক উগ্রপন্থা তাদের নিকেশ করতে থাকে৷ ১৯ জানুয়ারিকে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করে৷ কাশ্মীরি প্ডিতদের হতাশ করেছেন মোদী – শুধু বিরোধীরাই নয়, পণ্ডিতরাও তা-ই মনে করে৷