নয়াদিল্লি: দেশের বেকারত্ব নিয়ে সদ্য সামনে আসা রিপোর্টে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অধীনে থাকা NSSO-র রিপোর্ট বলছে, গত ৪৫ বছরে সবথেকে বেশি বেকারত্ব বেড়েছে এনডিএ সরকারের আমলে। সেই রিপোর্ট চেপে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এবার সেই অপবাদ ঝেড়ে ফেলতেই নতুন রিপোর্ট বানানোর কথা ভাবছে কেন্দ্র।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বিবেক দেবরায় জানিয়েছেন, নতুন করে ‘জব রিপোর্ট’ তৈরি করা হবে। সেই সার্ভেতে দেখানো হবে যে কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে।

ফাইল ছবি

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মোদী সরকারের কতটা দায় সেটা বুঝতে হবে। আংশিক কর্মসংস্থান কেন্দ্র থেকে হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যাটা রাজ্যের। তবে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা থাকে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোদী সরকার সেই সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায় NSSO-র রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্টে মুখ পুড়েছে এনডিএ সরকারের। ‘ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিসে (NSSO’s)-এর পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (PLFS) তে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে, ১৯৭৩ সালে সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব দেখা দিয়েছিল। এরপর ২০১৭-১৮ তে ফের বেকারত্ব সেই পর্যায়ে নেমে যায়। শতাংশের বিচারে পরিমাণটা ৬.১ শতাংশ।

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১১-১২ সালে বেকারত্বের পরিমাণ ছিল ২.২ শতাংশ। গ্রামে বেকারত্বের পরিমাণ ৫.৩ শতাংশ আর শহরে ছিল ৭.৮ শতাংশ। এই সমীক্ষা বলছে গত কয়েক বছরে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত শহরাঞ্চলে বেকারত্ব বেড়েছে বেশি।

২০১৬ সালে নোটবন্দির পর এটাই এনএসএসও-র প্রথম রিপোর্ট। সম্প্রতি ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের চেয়ারম্যান পি সি মোহানান এবং আর এক সদস্য সংস্থার পদ ছেড়েছেন। এরপরই এই রিপোর্ট নিয়ে আরও বেশি করে বিতর্ক শুরু হয়। পি সি মোহানান জানিয়েছেন রিপোর্ট প্রকাশে দেরি হওয়া তাঁর পদ ছাড়ার অন্যতম কারণ। সোমবার পদত্যাগ করেছেন তাঁরা। তাঁরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকমাস ধরে সরকার তাঁদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়াতেই পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এনএসএসও-র রিপোর্ট নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে অবশ্য পিএফের ডেটা তুলে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাহুল গান্ধীর ট্যুইটের জবাব দিয়ে বিজেপি ট্যুইটে দাবি করে এটা FakeNews.