নয়াদিল্লিঃ বাজেটে লাভজনক এলআইসি’র ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রিয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। যা নিয়ে তীব্র হৈচৈ দেশজুড়ে। এলআইসি’র পর এবার কেন্দ্রের বিলগ্নিকরণের তালিকায় স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সেইল)। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার আরও ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চিন্তাভাবনা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে মোদী সরকার।

মনে করা হচ্ছে, সেইল বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে কোষাগারে আসতে পারে এক হাজার কোটি টাকা। দিল্লির অন্দরে এখন এটাই বড় খবর। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে কিছুই আসা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

প্রকাশিত এক সংবাদ জানাচ্ছে, বর্তমানে কেন্দ্রিয় সরকারের হাতে রয়েছে সেইলের ৭৫ শতাংশ শেয়ার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেলের ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে কেন্দ্র। এখন কোষাগারে পুঁজি টানতে আরও ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে চাইছে মোদী সরকার। সেইমতো সংস্থার শেয়ারের দাম বাড়াতে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে রোড শো-র পরিকল্পনা করেছে ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (দীপম) এবং স্টিলমন্ত্রক। কিন্তু, করোনা ভাইরাসের জন্য হংকংয়ের শো বাতিল করতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মোদী সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, ‘অফার অব সেলের (ওএফএস) মাধ্যমে ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। কিন্তু, তার আগে ওই রোড শোয়ে দাম যাচাই করে নেওয়াটা খুব প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ওই আধিকারিক।

রাজকোষে টান। ঘাটতি মেটাতে জীবন বিমা নিগম (LIC)-তে নিজেদের সত্ত্বের একাংশ বিক্রি করার কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সীতারমণ তাঁর বাজেট ভাষণে জানিয়েছেন, LIC-তে সরকারের সত্ত্বের একাংশ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জীবনবিমায় থাকা ভারত সরকারের শেয়ার বিক্রি করা হবে আইপিওর মাধ্যমে। নির্মলার বাজেটে এহেন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রীতিমত আতঙ্কে ভুগছেন আমানতকারী থেকে এজেন্টরা।

তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে গোটা দেশে ৩২ কোটি গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এজেন্টের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। প্রায় লক্ষাধিক এজেন্ট কাজ করে এলআইসি’র হয়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই প্রস্তাবে এলআইসির মধ্যে তীব্র দোলাচল শুরু হয়েছে। অনেকের মতে,এলআইসি যদি বেসরকারি হাতে বা শেয়ার হোল্ডারদের হাতে একটা বৃহৎ অংশ চলে যায়, তাহলে সংস্থার সুনাম এবং পারফরম্যান্স দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, এমন কোনও সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না যাতে গ্রাহক কিংবা এজেন্ট কারোর কোনও ধরনের ক্ষতি হয়। আর সেজন্যে মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ার এলআইসি’র বিক্রি করা হতে পারে। মন্ত্রকের আধিকারিকরা মনে করছেন, মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলেই সরকারের লক্ষ্যমাত্রার থেকে অনেক বেশি টাকা রাজকোষে চলে আসবে। এবার রাজকোষের আরও একটা অংশ পুরণ করতে সেলের দিকে নজর মোদী সরকারের।