নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় জোর কেন্দ্রের। সীমান্তের অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গকে ৩১৬ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন দিল মোদী সরকার । সীমান্ত নিরাপত্তায় গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থ সহযোগিতা পেল এরাজ্যই।রাজ্যের তরফেও সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে৷

২০১৪-র অক্টোবরে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরই পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গিচক্রের খোঁজ মেলে। হদিশ মেলে সিমুলিয়া, ঘোজাডাঙার মতো খারিজি মাদ্রাসার, যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার ফেলে সেখানে শরিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে জেএমবি। সেজন্য এরাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় গোপন আস্তানা তৈরি করেছে তারা।

আরও পড়ুন: মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে তৃণমূলের সুরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দুষলেন কংগ্রেসের মান্নান

এদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমানের মাদ্রাসাগুলিকে যুবক-যুবতীদের মগজধোলাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে বাংলাদেশি জঙ্গিরা। সীমান্ত দিয়ে তারা ঢুকছে এদেশে। উল্লেখ্য, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, অসমের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকার রাজ্যও রয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তায় তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হচ্ছে পোস্ট এবং নাকা চেকিং পয়েন্টের সংখ্যা। উচ্চপ্রযুক্তি প্রয়োগে যন্ত্রপাতি লাগানো হচ্ছে, হচ্ছে নাইট ভিশনের ব্যবস্থাও।

আরও পড়ুন: পুলিশের চিঠি ফাঁস করে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মুকুল

ইতিমধ্যে এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সর্বোচ্চ অনুদান পেয়ে এরাজ্যের শাসক-বিরোধী খুশি হলেও মাদ্রাসা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্ট তারা মানতে চাইনি৷শাসক দল তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেসও তার প্রতিবাদ জানিয়েছে৷

বুধবার আবদুল মান্নান বিধানসভায় বলেছেন, “অনেক ছাত্র পড়ে মাদ্রাসাতে। অনেক হিন্দু শিক্ষকও রয়েছেন। কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যদি কেউ এধরনের কথা বলেন, তা সংবিধানবিরোধী। বাংলার কথা উল্লেখ করে, বাংলার সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে আঘাত করা হয়েছে। আমাদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব