নয়াদিল্লি: শনিবারই দ্বিতীয় মোদী সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের এক বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে সাফল্যের খতিয়ান দিতে চলেছে, তাতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরির উল্লেখ নেই। সাফল্যের খতিয়ানে রয়েছে সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বিলোপ, তুলে ধরা হয়েছে করোনা মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকা, আমফান, বুলবুলের মতো ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নিরাপত্তারক্ষীদের সাফল্যের কাহিনী।

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে মোদী সরকার। দ্বিতায় দফায় ঐতিহাসিক দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা। সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বিলোপ হয়েছে। তৈরি হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন। বিগত দিনের সাফল্যের খতিয়ানে অন্য একাধিক বিষয় থাকলেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরির বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

দ্বিতীয় মোদী সরকারের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা ও সংবিধানের ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিল করা। যা নিয়ে বিতর্ক চললেও তাতে আমল দিতে চায়নি মোদী সরকার। তবে অত্যন্ত সুকৌশলে বিগত দিনের সাফল্যের খতিয়ানে নেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের উল্লেখ। দেশজুড়ে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন হাজার-হাজার মানুষ।

উত্তর-পূর্বের রাজ্য থেকে ছড়িয়ে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ সিএএ-র বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লির শাহিনবাগে গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে একটানা চলে অবস্থান আন্দোলন।

পরে দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। রাজ্যে-রাজ্যে সিএএ-র প্রতিবাদে সুর চড়ায় বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল। এনডিএ শরিকদেরও কেউ কেউ এই আইনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সেই কারণেই দ্বিতীয় মোদী সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বিতর্কিত এই আইনটির উল্লেখ করা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। দেশজুড়ে ক্রমেই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে মারণ করোনা। দিনে-দিনে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে সিএএ নিয়ে নতুন করে কোনও বিতর্ক তৈরি হোক তা চায়নি অমিত শাহের মন্ত্রক। সেই কারণেই কৌশলে সাফল্যের খতিয়ানে রাখা হয়নি সিএএ-কে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV