স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে দেশে শুধু বেকারত্বই বাড়েনি, বরং ধ্বংস হয়েছে চাকরিবাকরিও৷ প্রচারে প্রার্থীদের এই কথাই বারবার করে বলতে নির্দেশ দিল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি৷ প্রসঙ্গত সিপিএমের ইশতেহারে প্রকাশিত হয়েছে, মোদী সরকার মানুষের জীবন-জীবিকার উপর নজিরবিহীন আক্রমণ করেছে৷ ইস্তাহার পরিষ্কার জানানো হয়েছে, গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভরতুকি প্রাপ্ত খাদ্য, ১০০ দিনের কাজের মতো জনসাধারণের প্রাপ্যগুলির ব্যাপক কাঁটছাট এবং এগুলি থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে৷

ইস্তাহারে এও বলা হয়েছে, মোদীর জমানায় কৃষির সঙ্কটের তীব্রতা বৃদ্ধি ঘটেছে৷ ভারতীয় কৃষকদের জীবন প্রায় একপ্রকার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে৷ কৃষকেরা চাপের মুখে আত্মহত্যা করেছে৷ এই বিষয়গুলিকে বেশি করে প্রার্থীদের প্রচারে আনতে বলা হচ্ছে৷ সিপিএম চাইছে, ভারতের দরিদ্র জনসাধারণ বুধুক, গ্রামীণ ভারতের মানুষের জনজীবন এতটা খারাপ আর কখনও হয়নি৷ উল্লেখ্য, পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন হল রাজনৈতিক মহাভারত৷ মোদী এবং অমিত শাহ সেখানে দূর্যধন এবং দুঃশাসনের মতো দুই চরিত্র৷

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এও মনে করেন, স্বাধীনতা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনই হল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ৷ দেশের মানুষকে আরও দায়িত্ব নিয়ে সবদিক বিচার করতে হবে৷ দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে বাঁচাতে হলে শেষ পাঁচ বছরে মোদীর কাজ বিচার করা গুরিত্বপূর্ণ নয়৷ বরং দেখতে হবে, আগামী পাচ বছরের জন্য দেশকে কোন হাতে গচ্ছিত করা হচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ, সিপিএম প্রার্থী প্রচারে বলবেন, দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে মোদী সরকার৷ একদিকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করা হয়েছে৷ অন্যদিকে, সফল ভাবে সংবিধানসম্মত সংস্থাগুলির গৈরিকীকরণ করেছেন৷ সরকারের শেষ পাঁচ বছরে এটাই অন্যতম কাজ৷ সংবিধানের চার স্তম্ভ – ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ – শেষ পাঁচ বছরে ধ্বংসপ্রাপ্ত৷

লোকসভা নির্বাচনে যারা লড়াই করছেন, সিপিএমের সেই প্রার্থীরা জনসভায় দাড়িয়ে বলছেম, ২০১৮ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষি থেক আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২.৬৭ শতাংশ৷ গত ১৪ বছরে যা সর্বনিন্ম৷ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে কৃষি খাতে ফিরে না আসা ঋণের পরিমাণ বেড়েছে৷ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা ঠিক এক বছর আগে তা দাঁড়ায় ১ লক্ষ কোটি টাকা৷ কৃষিতে এহেন দুর্যোগ বৃদ্ধির পরিণতিতেই বাড়ছে কৃষক আত্মহত্যা৷ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে প্রচারে দরিদ্র মানুষকে মোদী সরকারের আসল চেহারা দেখাতে সচেষ্ট হবে সিপিএম৷ পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও ব্যাপাক জোরদার প্রচার শুরু করেছে পার্টি৷ পার্টির সাঘারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‘কেন্দ্রে বিজেপি সরকার যা করেছে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারও একই কাজ করছে৷’’