নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীর সফরে যাওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে এবার রিপোর্ট চাইল প্রধানমন্ত্রীর দফতর৷ ভূস্বর্গ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৩৭০ ধারা৷ এবার উপত্যকায় ঢালাও উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ সেই লক্ষেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীরে এখনই কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন, তা দেখতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দফায় দফায় উপত্যকায় পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ জম্মু ও কাশ্মীর ঘুরে তাঁরা কী দেখলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কী তাঁদের পরামর্শ, সব তথ্য জানতেই এবার মন্ত্রীদের রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর৷

মোট ৩৭ জন মন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের ৭০টি অঞ্চল ঘুরে দেখেছেন৷ কথা বলেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে৷ প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, শুধু শহরাঞ্চল ঘুরলেই হবে না৷ মন্ত্রীদের যেতে হবে গ্রামাঞ্চলেও৷ প্রয়োজনে গ্রামবাসীদের সঙ্গে একই বাড়িতে রাতে থেকে তাঁদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে মন্ত্রীদের৷ তাঁদের কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন তা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই জেনে নিতে হবে৷ সেই মতো গত কয়েকদিনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা৷ এবার তাঁদের রিপোর্ট দেওয়ার পালা৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রীদের থেকে৷

৩৭০ ধারা কার্যকর থাকায় জম্মু ও কাশ্মীরে উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে একাধিক সমস্যা হতো বলে মত কেন্দ্রের৷ ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ায় এবার কাশ্মীরে ঢালাও উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবারে চূড়ান্তভাবে সচেষ্ট হয়েছেন৷

৩৭০ ধারা বাতিলের পরই ভূস্বর্গে বড়সড় বিক্ষোভ-আন্দোলনের আশঙ্কা করেছিল কেন্দ্র৷ সেই কারণেই আগেভাগেই সতর্কতামূলক সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল৷ অশান্তি এড়াতে কাশ্মীরে সবরকম সভা-মিছিল ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়৷ তড়িঘড়ি গৃহবন্দি করে ফেলা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের৷ ইন্টারনেট ও কেবল টিভি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ ভূস্বর্গের দিকে দিকে জারি করা হয় কার্ফু৷ গোটা কাশ্মীর কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়৷

তবে আগের চেয়ে এখন কাশ্মীরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিকের পথে৷ কিন্তু ভূস্বর্গের বহু রাজনৈতিক নেতা আজও গৃহবন্দি৷ বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই বিরোধীদের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে৷