স্টাফ রিপোর্টার: মোদীর সভার আগে বিজেপি প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ বিভিন্ন জায়গায় নরেন্দ্র মোদীর ছবির ফ্লেক্সের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির ফ্লেক্স।

আজ শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে এবং পড়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। এই দুই জায়গাতেই মোদীর সভার প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিজেপি শিবির। দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে।

দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানিয়ে বিশাল গেট করা হয়েছিল। যেখানে ছিল নরেন্দ্র মোদীর বিশালাকার কাট-আউট। শুক্রবার সেই গেট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় নরেন্দ্র মোদীর ছবি। পাশাপাশি খুলে নেওয়া হয় বিজেপির পোস্টার। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এই অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

যদিও বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি স্থানীয় একটি ক্লাবের পক্ষ থেকে মোদীর ছবি খুলে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। ওই ক্লাবের পক্ষ থেকেও বিশয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ক্লাবের সম্পাদক বলেছেন, “আমাদের ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানের জন্য গেট করা হয়েছিল। আমাদের কিছু না জানিয়েই সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানো হয়। সেই কারণেই আমাদের ছেলেরা তা খুলে দিয়েছে।”

তবে ওই সকল এলাকায় মোদীর ছবির উপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি বেনাচিতি বাজার এলেকার ওই ক্লাব কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ তৃণমূল নেতৃত্বের।

একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে। সেখানেও বিভিন্ন জায়গায় মোদীর ছবির উপরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পাশাপাশি ঠাকুরনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছেয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকায়। এই বিষয়ে এক বিজেপি নেত্রী বলেছন, “আসলে তৃণমূলও মোদীকে স্বাগত জানাতে চাইছে। তাই ওদের পতাকা টাঙিয়েছে।”

এই মোদীর ছবির উপরে মমতার ছবি লাগিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, “দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাস্থলের ৫০ থেকে ৭০ মিটার দূরে প্রধানমন্ত্রী ছবি সম্বলিত ব্যানারের উপরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার পোস্টার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যে গণতন্ত্র এই এটাই সবথেকে বড় প্রমাণ।” এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে অনেক বিজেপি কর্মী তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বিজেপি সম্পাদক রাহুল সিনহা।