শেখর দুবে, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম অর্থাৎ শেষ দফায় ভোট গ্রহণ রবিবার৷ তার প্রায় ৩৭ ঘন্টা আগেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের ভোটের প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ এই নিয়ম এনে ভোটের আগে রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের৷

তবে এই সব নিয়ম আর পাঁচটা রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য খাটে৷ কিন্তু মোদী আছেন মোদীতেই৷ শেষ দফা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নিয়মকেই কৌশলে ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের দিয়েও নিজের প্রচার করিয়ে নিলেন৷

শেষ দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মতো ভোট প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে৷ তাই কেদারনাথে পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সকালে মন্দির দর্শন করে দুপুর থেকেই ধ্যানে বসেছেন তিনি৷ জানা গিয়েছে, রবিবার অর্থাৎ শেষ দফার ভোটের দিন সকালে ধ্যান ভাঙবে তাঁর৷

গেরুয়া বসন পরে কেদারের গুহায় ধ্যানে বসেছেন তিনি৷ তাঁর সেই ছবি প্রকাশ্যে এসেছে ইতিমধ্যেই৷ বিজেপি তাদের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে ইতিমধ্যে পোস্ট করেছে সেই ছবি৷ কোনও ছবিতে ধ্যানে মগ্ন মোদী৷ আবার কোনোটাতে জোড় হাতে প্রার্থনা করছেন৷ ‘ভোটের মাঝে এসব মোদীর নাটক’ বলে সে সব ছবি বিরোধী দলের অনেক কর্মী সমর্থকরাই শেয়ার করছে ফেসবুক সহ অন্যান্য সোশ্যাল মাধ্যমগুলিতে৷

বিরোধীদের এই প্রচারের ফলে আদৌও কী মোদীর কোনও ক্ষতি হচ্ছে৷ উলটে লাভই হচ্ছে৷ শেষ দফা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের বারনসী (যেখান থেকে নরেন্দ্র মোদী এই নির্বাচন লড়ছেন) সহ একাধিক ভোট কেন্দ্রের ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কাছে নিজের প্রচার ঠিক সেরে নিলেও মোদী৷ তাও আবার বিরোধীদের সাহায্য নিয়েই৷

পারিজাত সাহা নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক (যিনি ফেসবুকে পারিজাত নন্দন বলে রয়েছেন) একটি ফেসবুক পোস্টে মোদীর কেদারনাথে ধ্যান প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘‘যে লোকটা দিনে ১৮ ঘন্টা কাজ করে বলে ফাটিয়ে বেড়ায় সে সময় নষ্ট করছে কেন? ভোট তো শেষ নাটক করে লাভ কি?আজ্ঞে না মশাই। তাতি তাঁত বোনে আর মনে মনে গোনে। আসলে মোদীজি বিরোধীদল আর কমিশন কে বোকা বানিয়ে প্রচার করছেন – আর আপনি ঘরে বসে সময় নষ্ট করে সেই লাইভ শো দেখছেন৷’’

পারিজাত আরও লেখেন, ‘‘কাল ১৯তারিখ নির্বাচনের দিন হওয়ায় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রচার বৈধ৷ কিন্তু মোদীর মতো উদ্ভাবনী রাজনেতাকে বিধিতে কে আটকাতে পেরেছে? তাই তিনি পিছনের দরজা দিয়ে বিধি উলঙ্ঘন করে দিনটা ব্যবহার করে নিলেন৷ লক্ষ্য করে দেখুন শেষ পর্যায়ে অধিকাংশ আসন গো-বলয়ে তাই আজ তিনি সফ্ট হিন্দুত্বের তাস খেলে কেদারনাথে হর হর মোদী সেজে বসে পড়লেন। আদতে কোন নির্বাচনী জনসভা নয়। কিন্তু মিডিয়া সারাদিন তাঁকে দেখিয়ে গেল… পুরোটা দিন মোদী একা প্রচার করলেন, বাকিরা হাক্কাবাক্কা রয়ে গেল। যতক্ষণে ধরতে পারল ততক্ষণে দিন শেষ।’’

প্রসঙ্গত মোদীর কেদারে ধ্যান করার ছবি দেখে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, মোদী কি গুহার ভিতর ক্যামেরাম্যান নিয়ে গিয়েছিলেন?এই প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বক্তব্য, মোদীর এই ছবি আসলে ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার সামিল। তিনি ট্যুইট করে জানিয়েছেন, কেদারনাথে এইভাবে গিয়ে মডেল কোড অফ কনডাক্ট ভেঙেছেন মোদী। নির্বাচন কমিশনের উচিৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।