নয়াদিল্লি: একদিকে সীমান্তে মুখোমুখি ভার‍ত-চিন অন্যদিকে, করোনা বিধ্বস্ত বিশ্ব। আবার এদিনই রাশিয়ার সাংবিধানিক সংশোধন করতে সফল হয়েছেন পুতিন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে আরও কাছে পেতে এদিনটিকেই বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অভিনন্দন জানাতে পুতিনকে ফোন। দীর্ঘক্ষণ কথা মোদী-পুতিনের।

জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার সাফল্য উদযাপনের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দন জানাতেই মূলত প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানা যাচ্ছে, দুপক্ষের আলোচনায় দুই দেশ রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে আরও সম্পর্ক মজবুত করতে পারস্পরিক সমঝোতা আরও বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

চলতি বছরের শেষেই পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা আছে।

ভারত সর্বাধিক সামরিক অস্ত্র আমদানি করে এই রাশিয়া থেকেই। বিশ্বের উন্নততর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এই এস ৪০০। মাটি থেকে বায়ুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই এস-৪০০ রাশিয়ার সবচেয়ে উন্নত সিস্টেমগুলির মধ্যে একটা বলে মনে করা হয়। ভারত ও রাশিয়া ২০১৮ সালে এই চুক্তিতে সম্মত হয়। ভারতের পরিকল্পনা রয়েছে তিনটি মিসাইল সিস্টেম পাকিস্তান সীমান্তে ও দুটি সিস্টেম চিন সীমান্তে মোতায়েন করার।

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘ফেডারেল সার্ভিস অফ মিলিটারি টেকনিক্যাল কার্পোরেশন অফ রাশিয়া’র ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দ্রঝভ জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যেই প্রথম এস-৪০০ সিস্টেম হাতে পাবে ভারত। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নাকি তার আগেই তা ভারতে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হবে রাশিয়াকে। একইসঙ্গে ফাইটার জেট (Su-30 ও Mig-29), নৌসেনার জন্য যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাঙ্কেরও দ্রুত সরবরাহের দাবি জানানো হবে। এতেই স্পষ্ট, যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তিন বাহিনীকেই তৈরি রাখতে চাইছে ভারত।

ভারত রাশিয়া অস্ত্রচুক্তি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়ে ছিল চিন। রাশিয়াকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনওভাবেই ভারতের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া না হয়। তবে বেজিংয়ের সেই দাবির মুখে ছাই দিয়ে মিসাইল সিস্টেম ভারতে পাঠাচ্ছে রাশিয়া।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব