নয়াদিল্লি:  গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চায় মোদী সরকার। আর সেজন্যে কৃষি পরিকাঠামো তৈরি এবং উৎপাদন ইউনিট তৈরি করার ক্ষেত্রেই জোর দিতে চায় নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর তাই এই দুই বিষয়ে উদ্যোগী চাষি, কৃষি সমিতি, কৃষক সমবায় সংস্থা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ব্যাঙ্ক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হারে বার্ষিক ৩ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। ২ কোটি টাকা ঋণ পর্যন্ত এই ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। এমনটাই জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত খবর মোতাবেক, এই ব্যবস্থা প্রধানত নেওয়া হয়েছে ফসল উৎপাদনের পরবর্তী বিপণন, সংরক্ষণ, রপ্তানি, সাপ্লাই চেন, শস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং সেন্টার নির্মাণের জন্য। শুধু তাই নয়, সুদে ছাড়ের পাশাপাশি দেওয়া হবে পৃথক প্রকল্প অনুযায়ী ক্রেডিট গ্যারান্টি কভারেজও।

দেশজুড়ে চলছে লম্বা লকডাউন। দেশের অর্থনীতি অবস্থা টলমল। খারাপ অবস্থা। এই অবস্থায় কৃষকদের কথা ভাবছে মোদী সরকার। ঢেলে সাজাতে চায় গ্রামীণ ব্যবস্থাকে।

কৃষি পরিকাঠামো নির্মাণ ও বিনিয়োগে শিল্প সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য একঝাঁক সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করতে চলেছে মোদী সরকার। শুধু তাই নয়, সরকার চাইছে পরিকাঠামো নির্মানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুক কৃষকরাই। একা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে। কিন্তু একজোট হয়ে সমবায় গঠন, কিংবা সমবায় সমিতি ও কৃষি সহায়ক সমিতির মাধ্যমেও এই লগ্নির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এই উদ্যোগ কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতির কারবারিরা।

গতকাল রবিবার কৃষকদের জন্যে বড়সড় ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক গ্রামোন্নয়নে ১ লক্ষ কোটি টাকার কৃষি পরিকাঠামো ফান্ড প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে।

তা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাইছি শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখন থেকে সরাসরি কৃষকরাও এগিয়ে আসুক পরিকাঠামো নির্মাণে। কারণ কৃষকদের ফসল উৎপাদনের পর সবথেকে বড় সমস্যা তৈরি হয় সেই ফসলকে বাজারজাত করতে এবং যথাযথ দাম পেতে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের উপর নির্ভরশীল হতে হয় চাষিদের। তখনই কৃষকদের আয় আর বাড়ে না।

পাশাপাশি লোকসান সামলাতে গিয়ে বাড়ানো যায় না কৃষিজমির পরিমাণও। এই কারণেই জেলায় জেলায় হিমঘর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সাপ্লাই চেন সমিতি, ফসল সংরক্ষণ ও ফসল সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে কেন্দ্র। ফসল সংরক্ষণ এবং তারপর তা রপ্তানি—কেন্দ্র চাইছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটাই কৃষকদের মাধ্যমে হোক। ঠিক সেই কারণেই গঠন করা হয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল।

যার মধ্যে প্রথম ১ হাজার কোটি টাকা প্রথম দিনেই বরাদ্দ করা হয়েছে ২২৮০ কৃষি সমিতির জন্য। কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের মাধ্যমে জেলায় জেলায় কৃষি ক্লাস্টার নির্মাণ করা হবে। ৩৫০টি জেলায় হবে কৃষি ইউনিটের স্টার্ট আপস।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী কিষাণ নিধি সম্মানের ১৭ হাজার কোটি টাকা তুলে দেন সাড়ে ৮ কোটি কৃষককে। বলেন, লকডাউন এবং আনলক পর্বে একমাত্র কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি দেশকে সচল রেখেছে। তাই আগামী দিনে শিল্পমহল গ্রামে লগ্নি করলে বিশেষ প্যাকেজ দেবে সরকার। (তথ্যসূত্র- বর্তমান)

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা