নয়াদিল্লি: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে টানা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লকডাউন চলাকালীন বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন মাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি অফিস সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। লকডাউন দেশবাসীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লকডাউনের জন্য তাই দেশবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী প্রধানমন্ত্রী। রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে আরও একবার সে কথা জানান নরেন্দ্র মোদী।

গোটা দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রবিবার সকাল পর্যন্ত দেশে ১০৪০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫।

দেশজুড়ে চলা লকডাউনের জেরে দেশবাসীর একাধিক ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। লকডাউন চলাকালীন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনা ও বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময় পথে বেরোনোর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও একাধিক রাজ্যে নাগরিকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিক্রি ও কেনার ব্যাপারে নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিতে আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই পাশাপাশি সংকটের এই মুহূর্তে দেশের মানুষের এই সমস্যার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ছাড়া আর কোন পথ খোলা ছিল না বলেও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

নাগাড়ে ঘরবন্দি হয়ে থাকতে থাকতে ধীরে ধীরে মানুষ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আর সেই কারণেই রবিবার সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে মোদী বললেন সামাজিক দূরত্ব বাড়াতে। কিন্তু পরিচিতের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব নয়। রবিবার জাতির উদ্দেশে তিনি জানান যারা এই মুহূর্তে কোয়ারেন্তাইনে রয়েছেন তারা সাবধানতা অবলম্বন করছেন। তাদের মধ্যে কোন রকম ভেদাভেদ রাখা ঠিক না।

গত মঙ্গলবার দেশ জুড়ে লক ডাউনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে এই পন্থা অবলম্বন করেছেন তিনি। সারা বিশ্বে রীতিমত মহামারীর আকার ধারন করেছে এই ভাইরাস। তারই সঙ্গে এই দেশেও ক্রমে বেড়ে চলেছে সংক্রমণের হার।