গোয়ালিয়র: গোয়ালিয়রে এয়ার ফোর্স বেসে নামল মিরজ বিমান। ছুটে বেরিয় এলেন জওয়ানরা। পাহাড়ের মাথায় শত্রুপক্ষকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হতে থাকল গুলি। তারপর বিমান থেকে বোমাও পড়ল পাহাড়ে। কার্গিলের যুদ্ধক্ষেত্রে সঙ্গে যেন কোনও তফাৎ নেই এই ছবির।

আসলে, ২০ বছর আগে এমন দিনেই হয়েছিল কার্গিল যুদ্ধ। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জয় হাসিল করে এনেছিল ভারতীয় সেনা। তাই সেই জয় উদযাপন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা।

সোমবার বিশেষ কায়দায় গোয়ালিয়রে উদযাপন করা হয়েছে কার্গিল যুদ্ধের বর্ষপূর্তি। একেবারে নাটকীয়ভাবে মডেল পাহাড়ে বোমা ফেলল বায়ুসেনা বিমান। ঠিক এইভাবেই ২০ বছর আগে কার্গিল জয় করেছিল ভারত।

এদিনের এই মডেল যুদ্ধ দেখতে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। এছাড়া সেদিন কার্গিল যুদ্ধে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন গোয়ালিয়রের এয়ার বেসে। এদিন ওই সেনা ঘাঁটিতে প্রদর্শিত হয় পাঁচটি মিরজ ২০০০, দুটি মিগ ২১ ও একটি সুখোই ৩০ বিমান।

শুধু বিমান নয়, এদিন মিরজ বিমানের সঙ্গে বালাকোটে ব্যবহার করা SPICE বোমাও ব্যবহার করা হয়।

বিএস ধানোয়া জানান, মাত্র ১২ দিনের রেকর্ড সময়ে লেজার গাইডেড বোমা দিয়ে টার্গেট করা হয়েছিল টাইগার হিল।

১৯৯৯-এর ২৯ মে, কার্গিলের আকাশ থেকে একাধিক অভিযান চালায় ভারত। এছাড়া শত্রুদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে, পায়ে হেঁটেও অভিযানে নামে সেনাবাহিনী।

এদিনই বাটালিক সেক্টরে শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন মেজর এম সারাভানন। বাতালিক সেক্টরে পয়েন্ট ৪২৬৮ জয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। শত্রুদের দিকে তাক করে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে নিজের নিরাপত্তার কথা ভুলে যান তিনি। গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ।