কলকাতা: স্কুল চত্বরে মোবাইল ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল শিক্ষা দফতর। এ বার থেকে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে মোবাইল আনতে পারবে না। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহারেও বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নিয়ম চালু হতে চলেছে।

স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল-স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ে শিক্ষামহলে বিতর্ক রয়েছে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফোনে কথা বলা নিয়েও পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ, স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। এ বার বিষয়টি কড়া হাতেই মোকাবিলা করতে চায় শিক্ষা দফতর।

এর আগে পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। মোবাইল ফোন যে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়, নানা গবেষণায় বহুবার তা উঠে এসেছে। শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দিলে ঠিক করে বই পড়তেও সমস্যায় পড়ে তারা। বাস্তবিক এই সমস্যার কথা ভেবেই স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে পর্ষদ। সামনের বছর থেকে মোবাইল ফোনের নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করতে চলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

এই প্রসঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রধান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আগে মোবাইল ফোন ছাড়া কি সমাজ চলত না? স্কুল চলাকালীন ফোন ব্যবহার না করাই তো কাম্য। তাই এই নির্দেশিকা।’

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই গত ৯ ডিসেম্বর এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্যদের (শিক্ষা) উপসচিব পার্থ কর্মকারের তরফে নোটিস জারি করা হয়েছে। সরকারি স্কুল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-সহ পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে সমস্ত স্কুলেই এই নিময় কার্যকর হচ্ছে।

এই বিষয়ে পর্ষদ প্রধান আরও জানান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নথিভুক্ত সব স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় সই করে স্কুলে ঢোকা এবং বেরনোর সময় উল্লেখ করতে হবে। ক্লাসেও পড়ানোর সময় কোনোভাবেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষকরা। ২৬ জানুয়ারি, ১৫ অগস্ট-সহ বিশেষ বিশেষ দিনগুলিতে স্কুলে উপস্থিত থাকতে আবেদন পর্ষদ প্রধানের। নতুন শিক্ষাবর্ষে এমনই একগুচ্ছ নিয়ম লাগুর পথে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পড়ুয়ারা স্কুল চত্বরে মোবাইল আর ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে ক্লাসে এবং ল্যাবরেটরিতে মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্যে শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘন ঘন মোবাইল ব্যবহার একে বারেই নিষেধ করা হয়েছে। যদি কোনও প্রয়োজনে ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করতেই হয়, তা হলে স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে শিক্ষকদের।

একই সঙ্গে শিক্ষক এবং অশিক্ষকর্মীদের স্কুলে নির্দিষ্ট সময় আসার বিষয়েও নির্দেশিকা জারি করেছে শিক্ষা দফতর। তাতে বলা হয়েছে, ১০টা ৪০ থেকে ১০টা ৫০মিনিটের মধ্যে স্কুলের প্রার্থনায় অংশ নিতে হবে প্রত্যককেই। ১০টা ৫০ মিনিটের পরে কেউ স্কুলে ঢুকলে, তা ‘লেট’ হিসাবেই গ্রাহ্য হবে। সকাল ১১টা ৫ মিনিটের পরে স্কুলে ঢুকলে তাঁকে অনুপস্থিত ধরা হবে।

অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে, অশিক্ষক কর্মীরা স্কুল শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চলে যান। সে দিকেও নজর দিয়েছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাড়ে ৪টের আগে স্কুল ছাড়া যাবে না। শিক্ষা দফতরের নিয়ম মেনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।