প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: জেলা হাসপাতালেই ঝুঁকির পরিষেবার সম্মুখীন সাধারণ মানুষ৷ ফের অমানবিক ছবি জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে৷ প্রায়ান্ধকার প্যাথলজি বিভাগের মধ্যে যে দৃশ্য কলকাতা ২৪x৭-এর প্রতিনিধির ক্যামেরায় ধরা পড়ল তা রীতিমত শিউরে ওঠার মত৷

জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রবিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল প্রায় অন্ধকার ঘর৷ সেখানেই কিপ্যাডের মোবাইলের আলোয় এক শিশুর দেহ থেকে রক্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী৷ রক্ত টানার জন্য সিরিঞ্জ বারবার শিশুটির দেহে ঢোকানো হলেও সঠিক জায়গা খুঁজে না পাওয়ায় বারংবার যত্রতত্র সুঁচের খোঁচায় আঁতকে উঠছে শিশুটি৷

অথচ পাশেই রয়েছে একটি অত্যাধুনিক ঘর৷ যেখানে স্বচ্ছ আলোতেই শিশুটিকে পরিষেবা দেওয়া যায়। কিন্তু তা না করে অন্ধকারে সামান্য আলোয় কাজ করছেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী৷ এমনকী সঙ্গে নেই কোনও নার্সিং স্টাফও৷ এই অবস্থায় নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে শিশুটি৷

যদিও স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে৷ অদ্ভুতভাবে শিশুটির পরিবারের লোকেরাও কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷ তারওপর আজ ছুটির দিন থাকায় হাসপাতালের সুপারকেও পাওয়া যায়নি৷ ফলে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি হাসপাতালের পক্ষ থেকেও৷ যদিও রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে৷

কিন্তু তাতে দায় এড়াতে পারে কি হাসপাতাল? কীভাবে প্যাথলজি বিভাগে একজন কর্মী এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত কাজ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক৷ এই ধরমের ঘটনায় শিশুটির রীতিমত ক্ষতি হতে পারে জেনেও, কেন অন্ধকারের মধ্যে মোবাইলের আলোয় রক্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা ধন্দ্ব বাড়াচ্ছে৷