স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পুলিশের মাইকিং প্রচার সত্বেও ঠেকানো গেলনা গণপিটুনি। ফের গণপিটুনির ঘটনা ঘটল মালদহ জেলার তুলসিহাটায়। বৃহস্পতিবার ছেলেধরা সন্দেহে তুলসিহাটা গ্রামের একাংশ গণপিটুনি দেয় পাঁচজন যাযাবরকে। মালদহ পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার তুলসিহাটা গ্রামে।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানিয়েছে, ছেলেধরা সন্দেহে বৃহস্পতিবার দুপুরে তুলসিহাটা গ্রামে পাঁচজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেয় গ্রামেরই একাংশ মানুষ। পুলিশ সূত্রে খবর, গণপিটুনির খবর পুলিশের কানে যেতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। আক্রমণকারীদের হাত থেকে ওই যাযাবরদের উদ্ধারের সময় পুলিশের উপরও হামলা চালায় স্থানীয় কিছু মানুষ। শুধু তাই নয় তারা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস। এই ঘটনায় মোট সাত জনকে গ্রেফতার করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

যদিও এই গণপিটুনি এবং পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে হরিশচন্দ্রপুর থানার পুলিশ। এদিকে ধৃত সাতজনকে চাঁচল মহাকুমা আদালতের মাধ্যমে পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। আইসি সঞ্জয় কুমার আরও জানিয়েছেন,যারা পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল এবং পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করেছে তাঁদের কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবেনা।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদহ জেলার তুলসিহাটা গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে চারজন পুরুষ এবং একজন মহিলাকে গণপিটুনি দেয় গ্রামেরই একাংশ মানুষ। পরে পুলিশ ওই আক্রান্ত চারজন যাযাবর বলে জানতে পারেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তুলসিহাটা গ্রামের একটি আমবাগানে গত কয়েকদিন ধরে পলিথিন খাটিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি যাযাবরের দল বাস করছিল। সূত্রের খবর, ওই যাযাবরেরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাবিজ কবজ এবং জড়িবুটি বিক্রি করেই তারা রোজগার করত। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে ঘুরে ঘুরে ওই পাঁচজন তাবিজ কবজ বিক্রি করছিল। সেই সময় পরিস্কার বাংলা ভাষায় ওদের কথা না বুঝতে পেরে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয় তারপরেই শুরু হয় অতর্কিতে গণপিটুনি।

এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ পৌঁছায় আক্রান্তদের উদ্ধারে। জানা গিয়েছে সেইসময় ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের একাংশ পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কমব্যাট ফোর্স। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

এদিকে পুলিশের তরফে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রামের সাত জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি সন্দেহভাজন্দের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে যারা আক্রান্ত হয়েছিল তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেঁড়ে দেয় পুলিশ। আতঙ্কিত ওই যাযাবরের দল বর্তমানে তুলসিহাটাগ্রাম ছেঁড়ে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হঠাৎ করে কে বা কারা এই ছেলেধরা গুজব ছড়ালো সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।