চলছে বিয়ের প্রস্তুতি।

সৌমেন শীল, বারাকপুর: কন্যা দায় বড় দায়। আর কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা বা পরিবারের চাপ থাকে মারাত্মক। এই বিষয়টি ‘সমৃদ্ধ’ করেছে সাহিত্য এবং সিনেমাকে। আর কন্যা দায় থেকে উদ্ধার করা নাকি খুব পুণ্যের কাজ। এমনই রয়েছে শাস্ত্রে। মূলত এই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকেই গণ বিবাবাহের আয়োজন করেছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিনে উপনির্বাচনে জিতে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন। গত একবছরে তাঁর নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে এই গণ বিবাহই সবথেকে আকর্ষণীয়। একই সঙ্গে চমকপ্রদও বটে। একই সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে ১৫ জোড়া পাত্রপাত্রীর বিয়ে। লেনিননগর খেলার মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এই বিবাহবাসরের।

রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বিয়ের যাবতীয় রেওয়াজ। গঙ্গা নিমন্ত্রণ থেকে শুরু করে গায়ে হলুদ সবকিছুরই আয়োজন করা হয়েছে। সকালের দিকে বাজনা নিয়ে শোভাযাত্রা করে গঙ্গায় জল ভরতে যাওয়ার রেওয়াজও মানা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানের আয়োজক বিধায়ক সুনীল সিং বলেছেন, “বছর তিনেক আগে আমি একটা গণ বিবাহের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলাম। বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছিল। গণ বিবাহ একটা পুণ্যের কাজ। সেই সময় থেকেই এমন কিছু করার একটা ভাবনা ছিল।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “বিধায়ক হওয়ার পরে এখন কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে। অনেক মানুষের সঙ্গে মিশছি, অনেক অসহায় মানুষদের দেখছি। সবারই ভালো ভাবে নিজের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে থাকে। আর্থিক কারণে সেগুলো থেমে থাকতে পারে না। আমি নিজের মেয়ের যেভাবে বিয়ে দিয়েছি, সেভাবেই এখানে ১৫টা মেয়ের বিয়ে দিচ্ছি।”

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই গণ বিবাহে অংশ নেওয়া ১৫ জোড়া পাত্রপাত্রীর মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কারণ এই গণ বিবাহে অংশ নেওয়া সবাই একই ধর্ম বা জাতের নয়। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই অনুষ্ঠানের একটা বড় উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন বিধায়ক সুনীল সিং।

তিনি বলেছেন, “এই গণ বিবাহে অংশ নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে বাংলা ভাষী লোক যেমন আছে হিন্দি ভাষীও আছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও আছে।” বিয়েতে পাত্রপাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে খাট, বিছানা, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, সাইকেল এবং প্রয়োজনীয় সোনার সামগ্রী। এই বিষয়ে আয়োজক বিধায়ক বলেছেন, “একটা বিয়েতে যা যা দেওয়া হয় বাবা হিসেবে আমি সব কিছুই দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

সকাল থেকে কাজে ব্যস্ত এলাকার বিধায়ক সুনীল সিং

তাহলে বিধায়ক হয়ে এলাকার বাবার দায়িত্বও নিতে হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাবে সুনীল সিং-এর জবাব, “বাবার মতো দায়িত্ব তো নিতেই হচ্ছে। আগে একটা পুরসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলাম। এখন বিধায়ক হয়ে কাজের পরিধি অনেক বেড়ে গিয়েছে।” কাজের দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে কাজের চাপ কিন্তু বাড়েনি। অন্তত এমনই মনে করেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক। তিনি বললেন, “চাপ কিসের? আমি কাজের মানুষ। দিদি চাপ নেয় না। সকাল থেকে আমাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। চাপ কেন হবে?” জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই গণ বিবাহ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সুনীল সিং।

চলছে বিয়ের প্রস্তুতি।

তাঁর কথায়, “অন্য ধরনের বড় চমকপ্রদ কাজ করার ইচ্ছে তো আছেই। আগে এটা মিটুক। তবে কন্যা দান করা একটা বড় কাজ। এর থেকে বড় কিছু হতে পারে না। মেয়ের বিয়ে দেওয়া সবথেকে বড় ধর্ম এবং কর্ম। এর থেকে বড় কিছু হতে পারে না।”